চট্টগ্রাম রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ দিনের জন্য বেকার জেলেরা

২২ দিনের জন্য বেকার হয়ে গেল জেলেরা। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অলস বসে রয়েছে মাছ ধরার ট্রলার। একই সঙ্গে থেমে গেছে আর মাঝি-মাল্লা, মৎস্যজীবী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক-ব্যতিব্যস্ততাও। কর্ণফুলী নদীর চাক্তাই ও রাজাখালী খালের তীরে অবস্থিত মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

সোনালি যান্ত্রিক মৎস্যযান সমবায় সমিতির সামশুল আলম জানান, ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে সাগরে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এতে কয়েক জেলে বেকার বসে রয়েছে। অবশ্য, এসময় জেলেদের প্রণোদনা দিয়ে থাকে সরকার।

তিনি আরও বলেন, ভোলা, মনপুরা ও বরিশালের জেলেদের বেশিরভাগই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ সাগরে থাকায় দীর্ঘদিন বাড়িঘরে যাওয়া হয়নি।

দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর তীরে রাজাখালী ও চাক্তাই খালের মোহনায় অবস্থিত মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ঘিরে নদী ও খালে শত শত মাছ ধরার নৌকা নোঙর করে রয়েছে। জেলেদের অনেকে মাছ ধরার সরঞ্জাম জাল, টুকরি মেরামত করচ্ছেন। কেউ কেউ গল্প-আড্ডায় সময় পার করছেন। নৌকা ও জেলেদের মতো বসে রয়েছে ঠেলা-ভ্যানগুলোও।

মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা, বিক্রয়, মজুদ, সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তিনি আরও বলেন, ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা প্রদান করা হবে। চট্টগ্রামে ১৭ হাজার ৫শ জেলে পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। এরমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে দুই হাজার ৩৫০ জন। অন্যরা হচ্ছে সাগর উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকু-, সন্দ্বীপ ও মিরসরাইয়ে।

চট্টগ্রামে ১০ হাজারের অধিক নৌকা-বোট রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ ৫ উপজেলায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। মাছ ধরার সকল নৌযান এখন তীরে ফিরে এসেছে।

জেলেরা বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের জীবিকাও বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে অনেক জেলে জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েন। আইন মেনে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 265 People

সম্পর্কিত পোস্ট