চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

১২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

আধা কি. মিটার সড়কে অর্ধশত গর্ত

বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু ছয়লেন সংযোগ সড়ক

নগরীর বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু ছয়লেন সংযোগ সড়ক প্রকল্পের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাহাত্তাপুল অংশে। এই আধা কিলোমিটার সড়কে ছোট বড় অর্ধশত গর্ত রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সড়কের পাশাপাশি ওভারপাসেও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রাহাত্তাপুল অংশ নিয়ে যাত্রী ও চালকদের অভিযোগের শেষ নেই। কেউ কেউ রাহাত্তারপুলের আধা কিলোমিটার অংশকে ছয়লেনের দুঃখ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই অংশের সড়কের বিভিন্ন গর্তে পড়ে সিএনজি ট্যাক্সি, রিকশা ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। যার সাক্ষী এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী ও স্থানীয়রা।

চার নম্বর রুটের জামাল নামে এক চালকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নতুন ব্রিজ থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত ৭-৮ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে যেতে যে কষ্ট হয়, রাহাত্তারপুলের আধা কিলোমিটার ভাঙা অংশে গাড়ি চালাতে তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়। এই অংশে ছোট বড় প্রায় অর্ধশত গর্ত হবে। গাড়ির চাকা এসব গর্তে ঢুকে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃষ্টি হলে

তো রাস্তার অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়। এই অংশ পার হতে ‘জান বের’ হয়ে যায়।

এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা জানান, নতুন সড়কটি হওয়ার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে কালামিয়া বাজার থেকে বহদ্দারহাট-মুরাদপুর যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু রাহাত্তারপুল অংশে সড়কে এত বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যে কোন সময় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আধা কিলোমিটার অংশে ছোট বড় মিলে প্রায় অর্ধশত গর্ত রয়েছে। এছাড়া, সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। গত কয়েকদিন আগেও বিশ^বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম, রিকশা উল্টে যাত্রী ও ড্রাইভার সড়কে পড়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, প্রায় দেখা যায়, সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করে রাস্তা দখল করে রাখতে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব গাড়ি সড়কের একটি অংশ দখল করে রাখে। এসবের কারণে যানজটে আটকে থেকে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে জণগণের এসব দুর্ভোগ দেখতে হবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার আশিক কাদির জানান, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওভারপাস দুটির (কালামিয়া বাজার ও রাহাত্তারপুল) কাজ শেষ হয়ে যাবে। এগুলোর কাজ শেষ হলেই রাহাত্তারপুল অংশে সড়কের কাজ শুরু হবে। এছাড়া, বৃষ্টির পানি জমার পাশাপাশি ওখানে (রাহাত্তারপুল) সড়কের নিচে কোন পাইপ ফুটো হয়ে গেছে বলে আমাদের ধারণা। যার ফলে নিচ থেকে সব সময় পানি উঠে।
এখন কেন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, এখন রাহাত্তারপুল সড়ক অংশে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না, কারণ এখনো ওভারপাসের কাজ শেষ হয়নি। ওভারপাসের কাজ শেষ হলে গাড়িগুলো ওভারপাস ব্যবহার করে উপর দিয়ে চলে যেতে পারবে। তখন সড়কের কাজ শুরু হবে।

সড়ক ও জনপথ সূত্র (সওজ) থেকে জানা যায়, ‘বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতুর ছয়লেন সংযোগ সড়ক প্রকল্পের অধীনে ৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রাহাত্তারপুল ও কালামিয়া বাজার এলাকায় দুইটি ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৪টি সেতু ও ৮টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৬০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কুয়েত ফান্ড থেকে ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু উদ্বোধনের পর বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার প্রথম পর্যায়ে তিন লেন, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে পাঁচলেন করার সিদ্ধান্ত নেয় সওজ। সর্বশেষ এই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ছয়লেন সংযোগ সড়ক এবং সেতুর দক্ষিণ পাশে মইজ্জ্যারটেক-ভেল্লাপাড়া ক্রসিং পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দফায় দফায় পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের কাজ বারবার পিছিয়ে যায়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 664 People

সম্পর্কিত পোস্ট