চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

১২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ রাউজান

রাউজানে জাল সার্টিফিকেট তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ২

জন্মনিবন্ধন, চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর, সিটি কর্পোরেশন এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের রঙ্গিন, সাদাকালোসহ সব ধরনের সার্টিফিকেট দিতে পারেন রাজু আহমেদ ওরফে হিরু (৩৫)। তবে আসল নয়, আসলের আদলে এসব নকল সার্টিফিকেট দেন সে। আর এসব নকল সার্টিফিকেট কিংবা জন্মনিবন্ধন নেন চাকরি প্রত্যাশী, যাদের বয়স অতিক্রম হয়েছে, বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের বয়স বাড়াতে কিংবা বয়স বাড়তি করে পাসপোর্ট করতে যাদের প্রয়োজন, তারাই রাজুর গ্রাহক। বছরের পর বছর এসব নকল সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন নানানসহ কিছু নকল করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করে অবশেষে রক্ষা হয়নি রাজু।

শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হলো তাকে। রাউজান থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজুর এক

সহযোগীকেসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রাজুর বাড়ি চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ির মাঝির ঘাট এলাকায়। সে ওই এলাকার মৃত জাফর আহমেদের ছেলে। তার অপর সহযোগী ধৃত যুবক হলো মো. মাহাফুজ (২০)। সে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। এই ঘটনায় মূল হোতা রাজুর দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নকল বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট ও সেগুলো তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাউজান থানা পুলিশ তাদের কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নকল সার্টিফিকেট তৈরির সরঞ্জামসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে এসব তথ্যা জানান।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ইতিপূর্বে পাসপোর্ট তৈরীর জন্য রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেলের সীল, স্বাক্ষর জাল করে নকল সার্টিফিকেট জমা দেয়া হয় পাসপোর্ট অফিসে। পরে নকল হিসেবে চিহ্নিত হয় ওই সার্টিফিকেট। বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়।’ ওসি বলেন ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায় যে, তার এলাকার মাহাফুজ নামের এক যুবক জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করেছে। এরপর তিনি (চেয়ারম্যান) কৌশলে মাহাফুজকে ডেকে তা কার্যালয়ে আনেন। পরে মাহাফুজ কোথায় থেকে জাল নিবন্ধন তৈরি করেছে, সেসব ব্যাপারে জানালে চেয়ারম্যান থানা পুলিশকে খবর দেন। এরপর আমরা চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে রাত সাড়ে ১০টার সময় মাহাফুজকে আমাদের হেফাজতে নিই। মাহাফুজকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তথা (শুক্রবার ভোরে) আমি এবং এস.আই মাসুদ, এস.আই ইব্রাহিমসহ সঙ্গীয় পুলিশ পোর্স চাঁন্দগাও থানার গোলাপের দোকান এলাকায় আঁখি ডিজিটাল স্টুডিওতে অভিযান করি। অভিযানের সময় দোকানের মালিক নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ি মাঝির ঘাট এলাকার মৃত জাফর আহমেদের ছেলে রাজু আহমেদ ওরফে হিরুকে (৩৫) গ্রেপ্তার করি। এরপর তার বাড়ি ও দোকানে অভিযান করে তার কাছ থেকে জাল সার্টিফিকেট, নিবন্ধন, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের জাল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন প্রকার নকল সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। এছাড়াও এসব তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, কিবোর্ড, স্ক্যানার, প্রিন্টার, লেমেনেটিং মেশিন উদ্ধার করা হয়। রাজুর কাছে যেসব বিভিন্ন সার্টিফিকেট পাওয়া গেছে, তা শুধু চট্টগ্রাম নগরী, রাউজান নয়। তার কাছে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরের জাল সার্টিফিকেট। নামহীন আসল সার্টিফিকেটও তার কাছে রয়েছে। সেগুলো অনুকরণ করে এসব জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে ধৃত রাজু আহমেদ হিরু জাল সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, জাল শিক্ষা সনদসহ ইত্যাদি কাজ করে থাকে বলে স্বীকার করে। সে ২০০৮ সাল থেকে এসব জালিয়াতি করছে বলে জানায়। থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ আরো বলেন ‘রাজু তার আঁখি ডিজিটাল স্টুডিও নামের দোকানের নাম দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিলেও সে তমা স্টোর নামের আরেকটি দোকান পরিচালিত করছে আরেকটি ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে।’
এদিকে চেয়ারম্যানের হাতে ধরা পড়া মাহাফুজ পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায়, ‘সে তার বন্ধু উত্তর উরকিরচরের শফিউল আলমের ছেলে মো. আব্দুল করিমের সঙ্গে একই এলাকার শাহ আলমের মেয়ে নাদিয়া আলমের বিয়ের জন্য উরকিরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সোহলের জাল স্বাক্ষর ও সনদ বের করে রাজুর দোকান থেকে।’

এদিকে উরকিরচর ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘মাহাফুজের কাছে যে দুটি জন্মনিবন্ধন পাওয়া গেছে, তা আমার নয়।আমার পরিষদের সার্টিফিকেট জাল করায় সচিব হোসাইন মো. তোবারক বাদি হয়ে ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 264 People

সম্পর্কিত পোস্ট