চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

১২ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের পদক্ষেপ

সড়ক জিম্মি রিকশার কাছে!

প্রয়োজন আলাদা লেইন

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণপরিবহণের পাশাপাশি রিকশা নিয়ন্ত্রণেরও কথা উঠেছে। প্রতিটি সড়কে আলাদা লেইন, জংশন নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা, সড়ক দখলমুক্ত, ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘেœ চলাচলের ব্যবস্থা এবং জনসাধারণকে রাস্তা পারাপারে প্রচলিত আইন মানতে বাধ্য করার কথাও বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পদক্ষেপ বাস্তবায়নকে ঘিরে তারা এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, নগরীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে গত তিনদিন ধরে কাজ করছে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। প্রাথমিক পর্যায়ে নগরীর ব্যস্ততম দুটি ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর রুটে পরিবহণগুলোকে কঠোর এ পদক্ষেপের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ রুটের বাসগুলো নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে না। চালকদের বাধ্যতামূলক পরিধান করতে হবে ইউনিফর্ম, সাথে রাখতে হবে লাইসেন্স। মাঝপথে ঘুরানো যাবে না গাড়ি। ভাড়া উল্লেখ করে যাত্রীদের দিতে হবে টিকেট। আর এসব নিয়মের সাথে ট্রাফিক বিভাগ সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে গাড়ির ডকুমেন্ট ও রুট পারমিটের ওপর। যার প্রমাণ মিলেছে, ট্রাফিক বিভাগের এ উদ্যোগ কার্যক্রমের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার। এ দিন মামলা ও আটকের ভয়ে সড়কে নামেনি ১০ ও ৬ নং রুটের প্রায় শতাধিক বাস। এদিকে গণপরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ বড়–য়া। তবে এ ব্যাপারে পুরো সফলতা পেতে পুরো নগরীকে নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথা কাক্সিক্ষত সফলতা আসবে না বলে জানিয়েছেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ।

এ প্রসঙ্গে দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘নগরীর পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সব সড়কে অভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগুলো হবে না। প্রত্যেকটি সড়ক নিয়েও আলাদা আলাদা পরিকল্পনা নিতে হবে। পিক আওয়ার, অফ পিক আওয়ারে কি পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, তার তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। প্রত্যেকটি সড়কে কয়েকটি আলাদা লেইন থাকবে। এসব লেইনে কম গতি ও দ্রুত গতি যানবাহন আলাদাভাবে চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিশেষ করে রিকশা’র জন্য আলাদা লেইন থাকবে। যেটি দিয়ে শুধু রিকশা চলাচল করবে। ’
ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ বড়–য়া বলেন, ‘সড়কে কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করতে হবে। এর বত্যয় হলে জরিমানা, শাস্তিসহ সব ধরণের সাজা বাস্তবায়ন দরকার। সড়ক বেদখল রাখা যাবে না। ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের হাঁটার ব্যবস্থা, একই সাথে তারা কিভাবে রাস্তা পারাপার হবে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, সড়কে নির্দিষ্ট জায়গায় বাস দাঁড়ানো, যাত্রী ওঠানামা এবং জংশনগুলো সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রত্যেকটি গেট এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে যানবাহন চলাচলে কোন অসুবিধা না হয়।’

ট্রাফিক বিভাগ ও মনিটরিং টিমের দেয়া তথ্যমতে নগরীর ১০ ও ৬ নম্বর রুটে চলাচলকারী গণপরিবহনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। রুট পারমিট নেয়নি এমন গাড়ির সংখ্যাও এ রুটে শতাধিক। তবে গত বৃহস্পতিবার এই দুই রুটে চলাচল করেছে ২৬০টি গণপরিবহণ। এর মধ্যে ৬ নম্বর রুটের ১২০টি এবং ১০ নং রুটের ১৪০ টি বাস। ডকুমেন্ট ও রুট পারমিট না থাকায় সড়কে গাড়ি নামায়নি বাস চালকরা বলে জানান ট্রাফিক কর্মকর্তারা। তবে গতকাল শুক্রবার কোন অভিযান চালায়নি ট্রাফিক বিভাগ।
জানতে চাইলে পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে শুক্রবার ট্রাফিক বিভাগের কোন অভিযান চলেনি। শনিবার থেকে তা পুরোদমে চলবে।’

নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেই এলাকায় বাসযাত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে এটি বাস্তবায়নে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজপথে নেমে পড়েছিল ছাত্ররা। তারা কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যায় তার কিছু কাজ করেও দেখায়। সড়কের এক পাশ দিয়ে আলাদাভাবে রিকশা লেইনও করে তারা। ওই সময় সড়কে সুশৃঙ্খভাবে যানবাহনগুলো চলাচল করতেও দেখা গেছে।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 173 People

সম্পর্কিত পোস্ট