চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১১ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:১৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা হ মহেশখালী

মহেশখালীতে স্ত্রীর মামলা থেকে বাঁচতে স্বামীর প্রতারণা

বোনকে স্ত্রী, মা’কে শাশুড়ি সাজিয়ে ‘বিবাহ বিচ্ছেদ’

মহেশখালীতে আপন বোনকে ‘স্ত্রী’ সাজিয়ে বিয়ে বিচ্ছেদ করালো প্রতারক স্বামী ও তার চক্র। সস্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালারমারছড়া কাজী জয়নালের অফিসে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় চলছে তোলপাড়। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও সচেতন মহলের রোষানল থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দিয়েছে প্রতারক চক্রের মূলহোতা বর, কালারমারছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ার বাসিন্দা সৌদিয়া প্রবাসী জয়নালের পুত্র মুজাহিদুল ইসলাম খোকন, তার মামা নুরুল আবছার ও নুরুল আমিনসহ ওই চক্রের সকলেই। জানা গেছে, উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মাঝের পাড়ার দিন মজুর ইয়াসিননের কন্যা আরিফা আকতার ও একই গ্রামের মুজাহিদুল ইসলাম প্রকাশ খোকনের মধ্যে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন সুখে অতিবাহিত হলেও পরে শাশুড়ি বার বার আরিফা আকতারকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করে আসছিলেন। এ ব্যাপারে আরিফা আকতার তাঁর শাশুড়ি, স্বামীসহ কয়েকজনকে আসামি করে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে লম্পট ও প্রতারক মুজাহিদুল ইসলাম খোকন ইউনিয়ন পরিষদের বিচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য তার স্ত্রীকে বার বার নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। পরে প্রতারক মুজাহিদুল ইসলাম তার আপন বোনকে স্ত্রী ও আপন মামা নুরুল আবছারকে স্ত্রীর বড় ভাই এবং আপন মাকে শাশুড়ি সাজিয়ে কালারমারছড়া

নিকাহ রেজিস্টার কাজী জয়নালের অফিসে যান। এতে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সুশীল সমাজ ছাড়া উভয় পক্ষের ‘সম্মাতিক্রমে’ ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে বিচ্ছেদ করে দেন। প্রতারণার এ সংবাদটি তার স্ত্রী আরিফা আকতার লোক মারফত জানতে পেরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি পুলিশ সুপার আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহেশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ পেয়ে মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য কালামারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেন।

এদিকে অভিযোগ দায়েরের সংবাদ পেয়ে বর মুজাহিদুল ইসলাম খোকনসহ বাড়ির সকলেই গা ঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনার সাথে জড়িত চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিছেন স্থানিয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত প্রতারক মুজাহিদুল ইসলামের মা বলেন, ‘বিষয়টি পুনরায় সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’।

এদিকে নিকাহ রেজিস্টার কাজী জয়নাল বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি আমার সাথে প্রতারণা করে বিয়ের বিচ্ছেদের কাগজ পত্র সই করে নেয়ায় আমি মর্মাহত। আমি উক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য যেখানে যেতে হয় সেখানে যেতে রাজি’ ।

The Post Viewed By: 227 People

সম্পর্কিত পোস্ট