চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:৩৪ পূর্বাহ্ন

আল-আমিন সিকদার

নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ থেকে ‘পাইলট প্রকল্প’

স্টপেজ ছাড়া থামবে না বাস, থাকবে টিকেট ব্যবস্থা ইউনিফর্ম ও লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাবে না গাড়ি তিন স্থানে থাকবে মনিটরিং ব্যবস্থা

নগরীর গণপরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে এবার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক পর্যায়ে নগরীর ব্যস্ততম দুটি রুটের পরিবহণগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর সাফল্যের পথ ধরে পরবর্তীতে অন্য রুটগুলোতেও একই কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। চট্টগ্রামের বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সাথে কয়েক দফা বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাফিক বিভাগ। যে সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তা অনুসরণের অঙ্গীকার করেন গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিক নেতারা। নগর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর রুটের বাসগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বাসকে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়া হবে না। যতক্ষণ রাস্তায় থাকবে ততক্ষণ প্রতিটি বাসকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের মধ্যে চলাচল করতে হবে। মাঝপথে ঘুরিয়ে দেয়ার মতো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেয়া হবে না। প্রতিটি বাসের যাত্রীকে ভাড়ার টিকেট দিতে হবে। বাসচালককে নির্ধারিত পোশাক পরে গাড়ি চালাতে হবে। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ি চালানোর কোন সুযোগ দেয়া হবে না। তাছাড়া এসব পদক্ষেপ অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তাও মনিটরিং হবে। কালুরঘাট, টাইগার পাস ও সি-বিচ মোড়ে থাকবে এ মনিটরিং ব্যবস্থা। যেখানে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মনিটরিং করবে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহণ মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রশাসনের এ ধরণের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ ধরণের কার্যক্রমের সাথে আমরা একাত্মতা পোষণ করেছি। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে মেট্রো প্রভাতি নামক একটি সার্ভিস আমরা চালু করেছি। আশা করছি, প্রশাসনের এ কার্যক্রম ধারাবাহিক হবে। অন্যথায় এটা ফলপ্রসূ হবে না। এবং প্রতিটি রুটকে এই উদ্যোগের আওতায় আনতে হবে।’

ট্রাফিকের বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমির জাফর পূর্বকোণকে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং গণপরবিহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আমরা পাইলট প্রকল্প নামে একটি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ নম্বর ও ৬ নম্বর রুটে চলাচলকারি পরিবহনগুলোকে এ কার্যকরি উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে। যেখানে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা করতে দেওয়া হবে না বাসগুলোকে। চালকদের বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম পরিধান করতে হবে এবং লাইসেন্স রাখতে হবে। শেষ গন্তব্যে পৌঁছার আগে মাঝপথে গাড়ি ঘুরানো যাবে না। যাত্রীদের ভাড়া উল্লেখ করে টিকেট বিতরণ করতে হবে। আর এসব পদক্ষেপ গাড়ি চালকরা অনুসরণ করছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে তিন স্থানে বসানো হবে মনিটরিং ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে এ কার্যকরী উদ্যোগ। প্রথম দিকে চালকদের আরও সচেতন করা হবে। এরপরেও তারা আইন অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি এবারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য সহজ হবে। কারণ, আমাদের এ উদ্যোগের সাথে তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আজ (গতকাল) তাদের নিয়ে টাইগার পাস মোড়ে আমরা টাইগার পাস মোড়ে চালকদের জন্য সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করি।’

এদিকে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় টাইগার পাস মোড়ে চালকদের জন্য সচেতন মূলক অভিযান পরিচালনা করে ট্রাফিক বিভাগ। যেখানে বাস চালকদের পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনতে সচেতন করে ট্রাফিক পুলিশ ও বাস মালিক সমিতির সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ট্রাফিক (উত্তর) মিজানুর রহমান, টি আই (প্রশাসন) মহিউদ্দিন, টিআই খুলশী জসিম উদ্দিন, মেট্রোপলিটন মালিক সমিতির মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, সিটি বাস ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ভানু দাশ গুপ্ত ও মহানগর বাস সার্ভিস সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবু তৈয়ব প্রমুখ।

The Post Viewed By: 382 People

সম্পর্কিত পোস্ট