চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

১০ অক্টোবর, ২০১৯ | ২:২১ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

৪ ফ্লাইওভার যাবে সিটি কর্পোরেশনে

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত

অবশেষে নগরীর চার ফ্লাইওভার সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএ’র বাস্তবায়িত ফ্লাইওভারগুলোর নিচের সৌন্দর্যবর্ধন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। ফ্লাইওভারগুলো হচ্ছে- এমএ মান্নান ফ্লাইওভার (বহদ্দারহাট), আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার (মুরাদপুর), দেওয়ানহাট ও কদমতলী ফ্লাইওভার।

গতকাল বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফ্লাইওভার গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিডিএ’র বাস্তবায়িত চার ফ্লাইওভার সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিডিএ থেকে ফ্লাইওভারগুলো গ্রহণের আগে আমরা তা দেখবো। ফ্লাইওভারের কোথায় এবং কী সমস্যা আছে। সেগুলো সংস্কার করার পর আমরা সিডিএ থেকে ফ্লাইওভারগুলো গ্রহণ করবো।’ সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ জানান, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় ফ্লাইওভারগুলো সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসলে, তা সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে।’ সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্ জানান, নগরীর চারটি ফ্লাইওভার সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করার বিষয়ে গতকাল বুধবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসলে ফ্লাইওভারগুলো সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। তবে এর আগে সিটি

কর্পোরেশন ফ্লাইওভারগুলো দেখবে- ফ্লাইওভারের কোনো কিছু পরিবর্তন বা মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে কিনা। যা যা পরিবর্তন বা মেরামতের প্রয়োজন হবে, সিডিএ তা সম্পূর্ণ করেই সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করবে। নির্মাণের পর থেকে এ চারটি ফ্লাইওভার সিডিএ রক্ষণাবেক্ষণ করছিল।

সিডিএ সূত্র জানায়, এমএ মান্নান ফ্লাইওভার (বহদ্দারহাট), আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার (মুরাদপুর), দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার ও কদমতলী ফ্লাইওভারের বিদ্যুৎ বিল, সৌন্দর্যবর্ধন ও মেরামত খরচ বাবদ সিডিএ’র প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় ফ্লাইওভারের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য টোল আদায়ের উদ্যোগও নিয়েছিল সিডিএ। কিন্তু পরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভারগুলো সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা করা হয়নি।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার : প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু করে সিডিএ। ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হয়ে ২০১৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার : ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১.৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার : ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১৩২ ফুট লম্বা এবং ২৮ ফুট প্রস্থ ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১৪ সালের নভেম্বরে।

কদমতলী : ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই উড়াল সড়কটি ২০১৫ সালের সেপ্টম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হয়।

The Post Viewed By: 877 People

সম্পর্কিত পোস্ট