চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ অক্টোবর, ২০১৯ | ১:১৮ এএম

এ.এম হোবাইব সজীব, মহেশখালী

ভূমি অধিগ্রহণ

৪ বছরেও জোটেনি ক্ষতিপূরণের টাকা

মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে দেশের বৃহত্তর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিকগ্রহণের ৪ বছর পরও উচ্ছেদ হওয়া ৪৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়নি। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, জমির ন্যায্যমূল্য দেওয়া হবে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, পুনর্বাসন করা হবে, মাতারবাড়ি কেউ বেকার থাকবে না, সবাইকে প্রকল্পে কাজ দেয়া হবে, নানারকম প্রশিক্ষণ দিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের দেয়া হবে, এসব প্রতিশ্রুতির ন্যূনতম বাস্তবায়ন ছাড়া তেমন কিছু করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জমি অধিকগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্য মো. আলী ও হুমায়রা বেগম বলেন, তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাপ-দাদার বসতভিটা চাষের জমি দিয়েছেন মাতারবাড়ির বাসিন্দারা। জমি অধিকগ্রহণের আগে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। আশা দেয়া হয়েছিল যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের। সেই আশাতেই দিন ফুরাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের।
কিছু লোক ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও অধিকাংশই টাকার মুখ দেখেননি। উচ্ছেদকৃত ৪৫ পরিবার পুনর্বাসন ও রোয়েদাদভুক্ত ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’র মাতারবাড়ির প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় ১ হাজার ৬০০ একর জমির ওপর মাতারবাড়িতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালের আগস্টে অধিগ্রহণ করা ১ হাজার ৬০০ একর জমি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ারকে বুঝিয়ে দেয়। এতে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গিয়ে ২০১৫ সালে জুনে ৪৫ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরে কোল পাওয়ার প্রায় ১০ একর জমিতে ৪৫ পরিবারের জন্য ৫০টি ঘর নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ টাকার দরপত্র আহ্বান করে। এ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রো গ্লোব কোম্পানি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের মার্চে শুরু করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নির্মাণ কাজ শেষ করে কোল পাওয়ারকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৫০টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ, ৫০টি নলকূপ, পর্যাপ্ত নালা ও রাস্তা নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

দেখা যায়, সম্প্রতি ১০টি ঘর পুনর্বাসন করা হয়েছে। বাকি ৩৫টি ঘরের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। ৫০ নলকূপের মধ্যে বসানো হয়েছে মাত্র ১৮টি। কার্যাদেশ পাওয়ার ১৫ মাসে কাজ শেষ করা হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। অথচ কাজ সম্পন্ন করার শেষ সময় এ বছরের সেপ্টেম্বরে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রো গ্লোব কোম্পানির প্রতিনিধি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে যথাসময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এখন গৃহ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে চারটি দল পুরোদমে কাজ করছে।

The Post Viewed By: 48 People

সম্পর্কিত পোস্ট