চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:২৬ এএম

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

হালনাগাদ ভোটার তালিকা

‘বিশেষ জোন’ চট্টগ্রাম অঞ্চল!

বিদ্যমান ফরমের সঙ্গে একটি ‘বিশেষ’ ফরমও পূরণ করতে হবে : আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ‘বিশেষ জোন’ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামী হালনাগাদ থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পার্বত্য জেলায় ভোটার নিয়মিত ফরম ছাড়াও ‘বিশেষ’ ফরম পূরণ করতে হবে। ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল সারাদেশের সঙ্গে চট্টগ্রামেও ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলার ১৫ উপজেলায় ইতিমধ্যেই হালনাগাদের কার্যক্রম হয়েছে। এখন চলছে নগরীতে। নগরীতে বর্তমানে চান্দগাঁও ও পাহাড়তলী থানার ওয়ার্ডগুলোতে হালনাগাদা কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চলতি হালনাগাদ কার্যক্রমে এবার রোহিঙ্গাদের নাগরিকদের ঠেকাতে আগ থেকেই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। সারাদেশের চেয়ে চট্টগ্রামে বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার হওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের জাতীয় সনদের বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘চলতি বছর হালনাগাদ কার্যক্রম অনেকটা শেষ পর্যায়ে। তারপরও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা বিশেষভাবে নজর রেখেছি। যাতে রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে।’
তিনি আরও বলেন, আগামী হালনাগাদ থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বিশেষ জোন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটার হওয়ার জন্য বিদ্যমান ফরমের সঙ্গে একটি ‘বিশেষ’ ফরমও পূরণ করতে হবে। তখন রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার কোন সুযোগ থাকবে না।
জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদের আগ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। তথ্য সংগ্রহকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়।
জেলার দক্ষিণের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, পটিয়াসহ কয়েকটি উপজেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কারণ এসব উপজেলায় রোহিঙ্গা নাগরিকদের বেশি বসবাস রয়েছে। তারপরও পটিয়ায় ভোটার হতে এসে আটক হয়েছে রোহিঙ্গা নাগরিক। জনপ্রতিনিধিদের জাতীয়তা সনদ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিল রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার পর থেকে টনক নড়ে নির্বাচন কমিশনের। টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ভুয়া ভোটার করার অপরাধে নির্বাচন কমিশনের আট কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে কড়াকড়ি করা হয়।
গত ১ আগস্ট থেকে নগরীতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভোটারযোগ্য ১৮ বছর বয়সী নাগরিক ছাড়াও ১৫ বছর বয়সী নাগরিকদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে ১৮ বছর বয়সীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৫-১৭ বছর বয়সের নাগরিকরা ১৮ বছর পূর্ণ হলেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।
হালনাগাদ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধনসনদ, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দেখাতে হবে। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর থেকে নাগরিকত্ব সনদ এবং ক্ষেত্রবিশেষে জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাসের সনদপত্র এবং বাড়ি ভাড়ার রশিদ/জমির খতিয়ান/হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের কপি প্রদান করতে হবে।

The Post Viewed By: 415 People

সম্পর্কিত পোস্ট