চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ অক্টোবর, ২০১৯ | ১২:৪৭ এএম

চন্দনাইশ

চন্দনাইশের লট-এলাহাবাদ আশ্রয়ণ কেন্দ্র

বিধি ভেঙে ঘর বরাদ্দ ভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের

উপজেলার কাঞ্চননগর লট-এলাহাবাদ এলাকায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ৪০ পরিবারের মধ্যে বরিশাল মনপুরা এলাকার আমেনা বেগম ৩৬ নং এবং তার মেয়ে ফাতেমা বেগম ৩৮ নং ঘর বরাদ্দ পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ৪০টি পরিবার ঘর বরাদ্দ পেলেও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বর্তমানে ১৮টির মতো পরিবার বসবাস করে। বসবাসকারীরা জানান, আশ্রয়ণ এলাকায় ২টি গভীর নলকূপ থাকলেও ১টি নষ্ট। খননকৃত পুকুরে পানি নেই, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই, নামাজ আদায় করার স্থান নেই। তাছাড়া এ এলাকায় বসবাসকারীদের বাজারের জন্য পায়ে হেঁটে ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রওশন হাট বা বাদামতল যেতে হয়। এ এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কোনরকম কর্মসংস্থান না থাকায় অনেক দূরে গিয়ে কাজের সন্ধান করতে হয়। এলাকায় সাপসহ বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পোকা, এমনকী রাতের বেলায় শিয়াল ও চিতা বাঘের আক্রমণের শিকারও হতে হয়। গত সপ্তাহে মেছো বাঘের শিকার হয়েছে ৪টি গৃহপালিত ছাগল ও বেশ কয়েকটি মুরগি। আশ্রয়ণ কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বসবাসকারী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ঘর পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাছাড়া চন্দনাইশ পৌর এলাকার নয়াহাট সংলগ্ন জনৈক লিটন এক অসহায় মহিলা থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। একইভাবে আরো কয়েকজন থেকে বিভিন্ন পরিমাণে অর্থের বিনিময়ে ঘর পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারিভাবে ১ টাকার রসিদ দিয়ে প্রতিটি পরিবার থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা করে নিয়েছেন চন্দনাইশ ভূমি অফিসের এক নাজির।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিবেদিতা চাকমা বলেছেন, ঘর পাওয়া লোকদের কাগজপত্র না থাকায় এবং দলিল তৈরি করতে ৫/৬শ টাকা খরচ হয়েছে। সে হিসেবে কিছু টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। একইভাবে টাকা নিয়ে ঘর বরাদ্দ পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চন্দনাইশ পৌরসভার জনৈক লিটন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা বলেছেন, বরাদ্দপ্রাপ্তদের আইডি কার্ড দেখে এবং যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্যের এলাকায় হওয়ায় তার সুপারিশে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ভিন্ন জেলার লোকজন বরাদ্দ পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বিধিমালা অনুযায়ী। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের লোকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘর বরাদ্দ পাওয়ার কথা রয়েছে। ভিন্ন জেলার লোকজন আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ঘর বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আমি স্থানীয়দের জন্যই সুপারিশ করেছি এবং আইডি কার্ড দেখা ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করি নাই। যদি স্থানীয়দের বাইরে কারো মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখতে হবে।

The Post Viewed By: 50 People

সম্পর্কিত পোস্ট