চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩:১৩ এএম

মোহাম্মদ আলী

এবার হালদার পোনা হালদায়

হালদা নদীতে ফেলা হচ্ছে এক লাখ পোনা। মা মাছের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হালদার রেণু বড় করে এসব পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ রুহুল আমীন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রথমবারের মত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর পোনা হালদায় ফেলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও খাবার দিয়ে মাছগুলো ১০ ইঞ্চি আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিটি মাছের ওজন হবে আনুমানিক ২০০ গ্রাম। আজ (মঙ্গলবার) হালদা নদীতে অবম্ক্তু করার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আজ সব মাছ ফেলা হবে না, পর্যায়ক্রমে হালদার বিভিন্ন অংশে ছাড়া হবে’।
তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদা নদীর পোনা যথেষ্ট মানসম্পন্ন। তাই প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রায় এক লাখ পোনা হালদাতে অবমুক্ত করে মা মাছের পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করি। হালদা নদীতে উন্নতমানের মা মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ডিমের পরিমাণও বাড়বে। যা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’।
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে স্মরণাতীত কাল থেকে রুই জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মাছ ডিম ছেড়ে আসছে। কিন্তু অবৈধভাবে মা মাছ শিকার, দূষণসহ নানা কারণে প্রতি বছরই মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে ডিমের পরিমাণও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এ অবস্থায় অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে ক্রয় করে কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া হতো। এসব মাছে আশানুরূপ ফল পাওয়া যেত না। এই প্রথমবারের মত হালদা নদীর রেণু প্রক্রিয়া করে হালদায় ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। মডেল পুকুরে পরিচর্যা করা হয় এক কেজি পোনা। আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে হালদা নদীর হাটহাজারীর গড়দুয়ারা অংশে মাছ অবমুক্ত করা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে পোনা নিয়ে ছাড়া হলেও হালদার পোনা হালদাতে ছাড়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এবার হালদার পোনা হালদায় ছাড়া হলে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে’।
তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি রেণুতে মাছের সংখ্যা হয় দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ। এরমধ্যে ৬০ শতাংশ রেণু নানাভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বাকি ৪০ শতাংশ রেণু থেকে প্রায় এক লাখ পোনা পাওয়া যায়’।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হালদা নদীতে মাছের পরিমাণ সমৃদ্ধ করতে প্রথমবারের মত হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর কার্প জাতীয় মা মাছের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ আগস্ট। গত ২৫ মে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এরপর স্থানীয়রা সেই ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারি অথবা মাটির তৈরি কুয়ায় স্থানীয় পদ্ধতিতে রেণু উৎপাদন করে। উৎপাদিত এক কেজি রেণু ক্রয় করে গত জুন থেকে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের একটি পুকুরে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়। বর্তমানে মাছগুলো ১০ ইঞ্চির বেশি আকার ধারণ করেছে। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক মণ পোনা হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে। অবশিষ্ট পোনা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হালদা নদীতে পর্যায়ক্রমে ফেলা হবে।

The Post Viewed By: 281 People

সম্পর্কিত পোস্ট