চট্টগ্রাম সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২১ এএম

মোহাম্মদ আলী

২ অক্টোবর পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প

কারিগরি পরামর্শক নিয়োগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প। আগামী ২ অক্টোবর বৈঠকে এটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ওয়াসার বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। তিন হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে এটিই হবে স্যুয়ারেজের ওপর ওয়াসার প্রথম প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘কারিগরি পরামর্শক নিয়োগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প। আগামী ২ অক্টোবর বৈঠকে এটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ওয়াসার বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।’

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১৬৫ একর জায়গাতে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে মোট ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ১৫টি পাম্প স্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিসলাইন করা হবে। ২০২১ সালের শুরুতে পাইপলাইন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। যার মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর তার পানি সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট কঠিন বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি হবে। এর জন্য তৈরি হবে দিনে ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি পয়ঃশোধনাগার এবং দৈনিক ৪৫০ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ফিকেল স্লাজ শোধনাগার’।

ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পর স্যুয়ারেজের ওপর প্রথম প্রকল্প তৈরি করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর ধরে নগরীর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে সেবা সংস্থাটি। এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ২০ লাখ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এর আগে চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরীতে শুধু পানি সরবরাহ করেছে। স্যুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ওয়াসার স্যুয়ারেজের প্রকল্পটির নামকরণ করা হয় ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সিওয়াসা) প্রতিষ্ঠিত হয়। এতদিন পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করতে না পারায় নগরীর সব রকমের বর্জ্য সরাসরি নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদী এবং সাগরে পতিত হচ্ছে।

The Post Viewed By: 101 People

সম্পর্কিত পোস্ট