চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

সেই কাভার্ডভ্যানেই বড় তিনটি চালান যশোরে

ইয়াবা পাচার ফ্লাইওভার থেকে ইয়াবা ফেলা কাভার্ডভ্যান জব্দ, চালক গ্রেপ্তার সাদা মাইক্রোর খোঁজ মেলেনি

 

পার্শ্বেলের মালামালের আড়ালে ইয়াবা পাচার করতো কাভার্ডভ্যান চালক যশোরের জয়নাল আবেদীন। দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের উপরে দাঁড়ানো কাভার্ডভ্যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া ৪০ হাজার ইয়াবা নেয়া হয়েছিলো নগরীর মাদারবাড়ি থেকে। এর আগেও একই কায়দায় আরো তিনবার বড় মাপের ইয়াবা চালান নিয়ে গিয়েছিলেন একই কাভার্ডভ্যানে। কাভার্ডভ্যানের মালিক বেনাপোলের হযরত আলি নিজেই ইয়াবা ব্যবসা করেন। শানু ওরফে শাহিন নামে এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা চালান সরবরাহ করতেন। বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের জনৈক জালাল উদ্দিনের কাছে ইয়াবা পাচার করেন হযরত আলি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলোচিত সেই কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল এসব তথ্য দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাতে ইয়াবাবহনকারী সেই আলোচিত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চালক জয়নাল আবেদীনকে। জয়নাল (৪৮) যশোর বেনাপোলের পোড়াবাড়ির রৌশন আলির ছেলে। ইয়াবা ফেলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে গ্রেপ্তার জয়নাল গতকাল শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কাভার্ডভ্যান জব্দ ও চালককে গ্রেপ্তার করা হলেও ফ্লাইওভারের উপর কাভার্ডভ্যান সিগন্যাল দেওয়া সেই সাদা মাইক্রোবাস কিংবা মাইক্রো থেকে নেমে আসা গোয়েন্দা পুলিশের পোশাক পরিহিত সেই ব্যক্তিদের খোঁজ মেলেনি।

গত ২৯ আগস্ট রাত পৌনে দশটায় কদমতলি ফ্লাইওভারে একটি কাভার্ডভ্যানকে সিগন্যাল দেয় একটি সাদা মাইক্রোবাস। এ সময় কাভার্ডভ্যান থেকে প্যাকেটভর্তি ৪০ হাজার ইয়াবা নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (ওসি) সদীপ কুমার দাশ জানান, কাভার্ডভ্যান থেকে ইয়াবা ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ডবলমুরিং থানার এসআই কিশোর মজুমদার বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নগরীর কদমতলী হতে অলংকার মোড়গামী একটি কাভার্র্ডভ্যান থেকে ইয়াবাগুলো ফেলা হয়েছে।
ওসি সদীপ জানান, নগরীর পাহাড়তলী পিসি রোড গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকার সামনে থেকে শনিবার রাত সাড়ে বারোটায় সামিয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি লেখা কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীনকে। সিগন্যাল দেওয়া সেই সাদা মাইক্রোবাস ও গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল জানান, মেসার্স সামিয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে কাভার্ডভ্যানটির (ঢাকামেট্টো-ট-২২-০১০১) চালক তিনি ও তার ছেলে আবদুল্লাহ (৩২)। তাদের নিজ বাড়ি যশোরের পোর্ট থানার বেনাপোল পোড়াবাড়ির নারায়নপুর গ্রামে। কাভার্ডভ্যানের মালিক হযরত আলিও যশোরের বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের জামাত আলির ছেলে। চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল দূরপাল্লার যাত্রা বিধায় পিতা-পুত্র মিলে দুই বছর ধরে গাড়িটি চালায়।

জয়নাল বলেন, প্রতি মাসে একাধিকবার ভাড়া নিয়ে এ গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে ফরিদপুর-মাগুরা-যশোর-বেনাপোল রুটে যাতায়াত করে। গত রমজানের ঈদের কিছুদিন আগে গাড়ির মালিক হযরত আলি চট্টগ্রাম শহরের জনৈক শানু ওরফে শাহিন নামে ব্যক্তির সাথে তার যোগাযোগ করে দেয়। এরমধ্যে পার্সেলের মালামালের আড়ালে একই কাভার্ডভ্যানে তিন দফায় বড় মাপের ইয়াবার চালানা পৌঁছানো হয়েছে কাভার্ডভ্যান মালিক হযরত আলির কাছে। প্রতিবার ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়ার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা পেতো জয়নাল ও তার ছেলে। শানুর সাথে জয়নালের ছেলে আবদুল্লার নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো।

চল্লিশ হাজার ইয়াবা গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে জয়নাল বলেন, গত ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামের মাদারবাড়ির নিউ যমুনা ট্রেডার্স এন্ড পার্সেল সার্ভিস অফিস থেকে কাভার্ডভ্যানে বিভিন্ন ধরনের মালমাল উঠিয়ে রওনা দেয়ার সময় যথারীতি শানু তাকে চারটি ইয়াবার প্যাকেট দেয়। ছেলে আবদুল্লাহ চালকের আসনে ও জয়নাল পাশের সিটে বসা ছিলেন। প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে ভর্তি ইয়াবার প্যাকেটগুলো সিটের নিচে রাখা হয়েছিলো। রাত আনুমানিক পৌনে দশটার সময় দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে অলংকার মোড়ের দিকে যাবার সময় দেওয়ানহাট এলাকায় ফ্লাইওভারের উপরে একটি সাদা মাইক্রোবাস কাভার্ডভ্যানকে সিগন্যাল দেয়। মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বুঝতে পেরে ইয়াবাভর্তি ব্যাগটি গাড়ির জানালা দিয়ে নিচে ফেলে।

জয়নালের দাবি, সিগন্যাল দেয়া সেই সাদা মাইক্রোবাসের ব্যক্তিরা কাভার্ডভ্যানটি মনসুরাবাদ এলাকায় নিয়ে তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর পরই মুঠোফোনে কাভার্ডভ্যান মালিক হযরত আলিকে বিষয়টি জানান জয়নাল।

The Post Viewed By: 1016 People

সম্পর্কিত পোস্ট