চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:০৬ পূর্বাহ্ণ

চা শ্রমিকদের সভায় রামভজন কৈরী বাঁচার মত মজুরি ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র চাই

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম ভ্যালি কমিটির সাধারণ সভায় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রী রামভজন কৈরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে চা শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের দাবী জানান। গত শুক্রবার সকাল ১০টায় ফটিকছড়ির কর্ণফুলী চা-বাগানে ভ্যালি কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টুর সভাপতিত্বে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রামভজন কৈরী বলেন, দীর্ঘ পৌনে দুশত বছর আগে তৎকালীন বৃটিশ শাসিত অঞ্চলে চা চাষ শুরু হয়। স্থানীয় জনগণ এ কাজ করতে চাইতো না বলে ভারতের বিভিন্ন দরিদ্রপীড়িত অঞ্চল থেকে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে মেহনতি মানুষদের জোর করে ধরে এনে চা-বাগানে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এদের উত্তর পুরষরাই এ চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বৃটিশ গেল, পাকিস্তান গেল দুর্ভাগা চা শ্রমিকদের অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। তারা এখনো ১০২ টাকা দৈনিক মজুরীতে কাজ করতে বাধ্য হয়। আমাদের প্রশ্ন কেন চা শ্রমিকরা স্বাধীন বাংলাদেশে অর্ধভূক্ত অবস্থায় মানবেতর পরিবেশে কাজ করবে। প্রধান অতিথি বলেন, এই অবস্থার অবসান করার সময় এসেছে। তিনি চা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই দুরবস্থা অবসানের আহ্বান জানান। তিনি ইতোমধ্যে চা মালিক সমিতির নিকট উত্থাপিত ইউনিয়নের দাবী নামা মেনে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের দাবী জানান। রামভজন কৈরী চট্টগ্রাম ভ্যালি ২৩টি বাগানের হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য একটি গ্রুপ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার দাবী জানান।

সভার প্রধান বক্তা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা ও টি.ইউ.সি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, এদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে বঞ্চিত চা শ্রমিকরা দীর্ঘ দুশো বছর ধরে কাজ করলেও কয়েক লক্ষ চা শ্রমিকের স্থায়ী বাসস্থানের জন্য এক ইঞ্চিও জায়গা নেই। তিনি বলেন চা শ্রমিকদের অবস্থা হলো “পরের জমি পরের জায়গা ঘর বানাইয়া আমি রই, আমি তো ভাই ঘরের মালিক নই।” তিনি বলেন চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার দিতে হবে, মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে, বাসযোগ্য ঘর দিতে হবে। প্রধান বক্তা চা শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইনে যে সব বৈষম্য রয়েছে তা নিরসনের দাবী জানান।

ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পংকজ বন্দ বলেন, শ্রমিকদের সম কাজের জন্য সমান মজুরীর আইন থাকলেও চা-বাগান সমূহকে এ, বি, সি ক্যাটাগরীতে ভাগ করে চা শ্রমিকদের মজুরী বৈষ্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি প্রত্যেক চা শ্রমিকের জন্য চা-বাগানের অভ্যন্তরে অন্তত ২০ শতক জমি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভ্যালি কমিটির সম্পাদক যতন কর্মকার, মদন রাজগড়, মৃদুল কর্মকার, বিপ্লব দে, জগায় দে, অপু কূর্মি. মিনু পান তাঁতী, নব কুমার ত্রিপুরা, নাসির উদ্দিন, অপু মুন্ডা, বীনা রায়, সীতা, ঊষা রানী দাশ, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মো. জাবেদ।-বিজ্ঞপ্তি

The Post Viewed By: 57 People

সম্পর্কিত পোস্ট