চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৩:১২ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চবির বড় প্রকল্পের কাজও হাতিয়ে নেন শামীম

হ নির্দিষ্ট সময়ের একবছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৫০ শতাংশ

কেবল দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্র পূরণ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতিয়ে নেন জিকে শামীম। ৭৫ কোটি টাকার দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি তাকে না দেওয়ার জন্য সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরম্যান্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) লিখিতভাবে আপত্তি জানায়। কিন্তু সাবেক উপাচার্য ও চবির প্রধান প্রকৌশলীর সহযোগিতায় এ কাজ ভাগিয়ে নেন জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিএল কোম্পানি লিমিটেড।

প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে চবির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের পর আরও একবছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৫০ শতাংশ। ভবন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় গত শিক্ষাবর্ষে চবির কলা ভবনে নতুন দুইটি বিভাগ খোলা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরও তা খোলার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে বলে চবি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়ার আগে চবির বিজ্ঞান অনুষদে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২২ কোটি টাকার একটি কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেন জিকে শামীম। কিন্তু একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই দরপত্রে অংশ নেয়। শামীমের জাল সনদের বিষয়টি ধরা পড়ায় তার প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করার দাবি উঠে। তবে চবি’র তৎকালীন প্রশাসন তার অনুকূলে থাকায় এজন্য তাকে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

চবির এই বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শেষ না করলেও ওই কাজের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে জিকেবিএল কোম্পানি ইতিমধ্যে নোয়াখালী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ কোটি টাকার এবং চট্টগ্রামে বিএসটিআই’র ভবন নির্মাণের আরো ৫২ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিয়েছে। এর বাইরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় বড় নির্মাণ কাজগুলো হাতিয়ে নিয়ে চলেছেন জিকে শামীম। অথচ ২০১৭ সালে গঠিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জিকেবিএল কোম্পানির ইতিপূর্বে কাজের একটি অভিজ্ঞতাও নেই।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও বর্তমানে সরকার দলীয় সংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায়

বিষয়ক সম্পাদক জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিএল কোম্পানি ‘দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের আরেকটি ভুঁইফুড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে চবির এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায়।
চবির প্রকল্পটিকে কাজ করা ঠিকাদার রবি উল্লাহ বলেন, জিকেবিএলতো আসলে এখানে কাজ করে না। আমরা তাদের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ নিই। বিষয়টি আমরা চবি প্রশাসনকে জানিয়েছি।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর চবি’র দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নিমাণের কার্যাদেশ পায় জিকেবিএল-দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স (জেভি)। অথচ জিকেবিএল কোম্পানি নামের এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিতই হয় একই বছরের ২৯ আগস্ট তারিখে। চবি’র এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছিল। এর বাইরে ৫ বছরের ভেতর অন্তত ৩৫ কোটি টাকার একটি নির্মাণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথাও বলা হয় শর্তে। জিকেবিএল’র কাজের কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকায় এই দুই শর্তই পূরণ হয়নি। তা জেনেও চবির প্রকৌশল বিভাগ তাদেরকে নির্মাণ কার্যাদেশ দেয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি চবির প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ।

অভিযোগ উঠে, চবি ছাত্রলীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের বাধার কারণে জিকেবিএল ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই দরপত্রের ফরম কিনতে পারেনি। ফরম কিনে কেবল জিকেবিএল-দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স (জেভি)।

The Post Viewed By: 1167 People

সম্পর্কিত পোস্ট