চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:২৪ এএম

বেসরকারি চাকরিজীবীদের দেখার কেউ নেই?

একটু স্বচ্ছলভাবে জীবন পরিচালিত করার আশায় আমাদের দেশে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকেন। কেউ সরকারি চাকরিজীবী আবার কেউ বেসরকারি চাকরিজীবী। ২০১৫ সালের পে-স্কেল করার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতার ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। একজন সরকারি চাকরিজীবী এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে। কিন্তু বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি লালন-পালন, লেখাপড়া ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। সরকারি চাকরিজীবীরা নানান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ফলে তাদের প্রয়োজন নিমিষে মেটাতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি চাকরিজীবীদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সাধারণত আমাদের দেশে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন স্কেল নেই প্রতিষ্ঠানের মালিক যা ইচ্ছা তাই দিয়ে থাকেন।

বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে চাকরির কোন নিশ্চয়তা থাকে না যেকোনো সময় চাকরি চলে যেতে পারে। এনিয়ে চাকরিজীবীদের সবসময় আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। মালিক যে-কোনো সময় তাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে থাকে। অনেক সময় হঠাৎ চাকরি থেকে ছাঁটাই করার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্য জীবন অতিবাহিত করতে হয়। এছাড়া বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কাজের অনেক চাপ থাকে। সরকারি প্রায় প্রতি প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন ছুটি কিন্তু বেসরকারি ক্ষেত্রে তা থাকে না। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান ওভারটাইম করানো হয় কিন্তু ওভারটাইমের কোন টাকা দেওয়া হয় না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণত কর্মঘন্টা আট ঘণ্টার বেশি, কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত যার ফলে বেসরকারি চাকরিজীবীরা চাইলে অন্য প্রতিষ্ঠানে আরেকটি চাকরি করতে পারে না। সরকারি চাকুরেদের মত কী বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ব্যবস্থা করা যায় না। সবাই সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। যেখানে সরকারি চাকরিজীবীরা অনেক টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকে, সেখানে বেসরকারি চাকরি করা অনেক কম বেতনের চাকরি করে থাকে। ফলে অনেক কষ্টে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন অতিবাহিত করতে হয়। এ থেকে কি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই? বেসরকারি চাকরিজীবীদের কি দেখার কেউ নেই? সরকার চাইলে কী পারে না বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেলের ব্যবস্থা করতে। এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি কামনা করছি।

আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার
চাকরীজীবী, সিলেট।

The Post Viewed By: 88 People

সম্পর্কিত পোস্ট