চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১৫ এএম

চসিকের ৫০ তম সাধারণ সভায় সিটি মেয়র

আগামী ৩ মাস চ্যালেঞ্জিং সময় সমন্বিত টিমওয়ার্কে কাজ করুন

মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন বলেছেন, ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই। ভালো টিম ওয়ার্ক করতে পারলে যে কোনোও অসাধ্য কাজ সাধন করা যায়। তাই আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময়। তিনি এই সময়ে সততা, আন্তরিকতা ও গুরুত্বসহকারে সমন্বিত টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের ৫০তম সাধারণ সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিক প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং চসিক’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমদ, সদ্য যোগদানকৃত প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেমসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন,

নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ডোর টু ডোর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২ হাজার সেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের জন্য চসিককে অতিরিক্ত ২৮ কোটি টাকা বেতন দিতে হচ্ছে। এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কর্মস্থলে আগমন এবং প্রস্তান সার্বিকভাবে মনিটরিং করার জন্য কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেয়র এবং কাউন্সিলররা একে অপরের পরিপূরক। আপনারা আপনাদের এলাকায় ভাল কাজ করলে মানুষ আপনাদেরকে ভাল জানবে, আপনাদেরকে ভাল জানলে আমাকেও ভাল জানবে। তাই এলাকায় এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে নগরবাসীর দুর্ভোগ ও সমস্যার সৃষ্টি হয়। জনগণের সেবক হিসেবে নিজকে গড়ে তোলার মন-মানসিকতা নিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হবে। তিনি পাশাপাশি উন্নয়ন কাজে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে তাদের মতামত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে কাজ করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ইউএনডিপি’র অর্থায়নে ১ লক্ষ ৫ হাজার পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে নগরীর প্রতিটি থানায় পৃথক পৃথকভাবে মতবিনিময় সভা করার ঘোষণা দেন মেয়র।
মেয়র বলেন, জাইকার অর্থায়নে নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ও আগ্রবাাদ এক্সেস রোডের চলমান উন্নয়ন কাজ নিয়ে বিবিধ সমস্যা ছিল । সেইসব সমস্যার সমাধান হয়েছে। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দুটির কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন।

এছাড়া ডিটিটি রোড, আরাকান সড়ক, হাটহাজারী সড়ক, এয়ারপোর্ট রোড এবং বায়েজিদ বোস্তামী রোডের কাজও শেষ করার নির্দেশনা দেন মেয়র। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম আসার পূর্বে এয়ারপোর্ট রোডের কাজ বিশেষ করে সিমেন্ট ক্রসিং রোড়, জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন স্কুলগুলোর কাজ শতভাগ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এছাড়া সভায় বিদ্যুৎ ও জালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ওয়েস্ট এন্ড পাওয়ারের জন্য ওয়েস্ট সাপ্লাই এগ্রিমেন্ট এবং জায়গা হস্তান্তর, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে নগরীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চসিকের উদ্যোগে কুইজ প্রতিযোগীতা (৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত) আয়োজন এবং প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কুইজ প্রতিযোগিতায় ৩ জন বিজয়ীকে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পুরস্কৃত করা এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মহাসমাবেশ করা, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চলমান সৌন্দর্যবর্ধন, বর্ষা ও ওয়াসার কাটিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাসমূহ জরুরিভিত্তিতে মেরামত করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী আলোচনা সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন উপ- কমিটির চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব কমিটির কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন এবং আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার শুরুতে কাউন্সিলর হাবিবুল হক ও এ কে এম জাফরুল ইসলাম মাস্টারসহ নগরীতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুণ-উর -রশিদ চৌধুরী।-বিজ্ঞপ্তি

The Post Viewed By: 188 People

সম্পর্কিত পোস্ট