চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:১৬ এএম

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ

নড়বড়ে ৪টি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিতে

চন্দনাইশ ২৫ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়নি বরকল ব্রিজ

চন্দনাইশে বরকল বেইলি ব্রিজটিসহ ৪টি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘসময় ধরে এ বেইলি ব্রিজগুলো পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ না নেয়ায় ঝুঁকিতে চলাচল করছে যানবাহন।

চন্দনাইশ উপজেলার সাথে আনোয়ারা উপজেলার সংযোগ সেতু বরকল বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছরেও বেইলি ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে। বিগত ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল চন্দনাইশ উপজেলা ও আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সেতু নামে পরিচিত বরকল বেইলি ব্রিজটি। ৩৬৫ ফুট দীর্ঘ, ১২ ফুট চওড়া এ বেইলি ব্রিজের নির্মাণ কাজ ১৯৯৪ সালে শেষ হয়ে ওই সালের প্রথম দিকেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ব্রিজটিতে ৩টি স্পেন স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য এ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বরকলের এ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণের ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ নেয়নি।

চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এ ব্রিজটি। কোন কারণে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আনোয়ারার সাথে চন্দনাইশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ এ ব্রিজ দিয়ে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী, বরমা, বরকলের অর্ধ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, শত শত সিএনজিচালিত ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার, মাইক্রো, নোহা, ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের সারভর্তি ট্রাক ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে দীর্ঘদিন থেকে।

বরকল বেইলি ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের বেইলি ব্রিজগুলো এক থেকে দেড় বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়, পূর্ণাঙ্গ ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের বেইলি ব্রিজগুলো করা হয় বলে তারা জানান। বর্তমানে বরকলের এ বেইলি ব্রিজটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে। ৩টি স্পেনের সংযোগ স্থানে স্পেনগুলো সরে গিয়ে মধ্যখানের লোহাটি ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। গত ১৪ জুলাই দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগ বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কিন্তু বন্যার কারণে সংস্কার কাজ করা হয়নি। বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে যানবাহন। এ বেইলি ব্রিজে যানবাহন উঠলেই থরথর করে কাঁপে ব্রিজ। যেকোন সময় পাঠাতন খুলে নিচে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া গাড়ি চলাচলের সময় গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেছেন গাড়ির চালকেরা। এ ধরনের ব্রিজের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ টন ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ব্রিজটির ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এর চেয়েও অধিক ওজনের মালামালবাহী ট্রাক চলাচল করছে অবাধে। তাই যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এলাকাবাসীর দাবি চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র এ বরকল ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ নিয়ে মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রুতি জনবান্ধব সরকার হিসেবে ব্রিজটি নির্মাণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের শাসন আমলে এ বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ দেয়ার জন্য। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর আ.লীগ ক্ষমতায় আসে। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানও এ ব্রিজের কাজটি সম্পন্ন করেননি। পরবর্তীতে মহাজোট সরকারের ৮ বছরের শাসন আমলে এ বেইলি ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ দেয়ার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে এ বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায়, মেরামত তথা পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ দেয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

২০১৬ সালের প্রথম দিকে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি গাছবাড়ীয়া-বরকল সড়ককে শহীদ মুরিদুল আলমের নামে ফলক উন্মোচনের সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বেইলি ব্রিজটি। সেই সময় স্থানীয়দের দাবিতে ব্রিজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ একবছর অতিবাহিত হলেও সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী অনেকটা হতাশ। এ ব্যাপারে মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একইভাবে ২০ বছরের অধিক পুরানো বেইলি ব্রিজের মধ্যে রয়েছে, চন্দনাইশ পৌরসভার আবদুল বারী হাট সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ, দোহাজারী লালুটিয়া বেইলি ব্রিজ, ছৈয়দাবাদের ৩ নং লর্ট এলাহাবাদের বেইলি ব্রিজসহ ৪টি বেইলি ব্রিজই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ সকল বেইলি ব্রিজগুলো যাত্রী সাধারণের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও মরিচা (ঝং ধরা) পুরাতন এসব বেইলিব ব্রিজের পাটাতন ভেঙে প্রায় ঘটছে দুর্র্ঘটনা। এসব বেইলি ব্রিজগুলি পূর্ণাঙ্গ ব্রিজে রূপ দেয়া অতিব জরুরি মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

The Post Viewed By: 93 People

সম্পর্কিত পোস্ট