চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৮ এএম

পূর্বকোণ প্রতিনিধি হ রঙামাটি অফিস

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২

ফের রক্তাক্ত বাঘাইছড়ি

নিহতদের লাশ মাটি চাপায় দেয়ায় উদ্ধার সম্ভব হয়নি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবারো ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন রিপেল চাকমা (২৫) ও বর্ষণ চাকমা (২৪)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ৩২ নং বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডস্থ দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নবছড়ায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত দু’জনেই সংস্কারবাদি জেএসএস (এমএন লারমা) দলের সমর্থক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বাঘাইছড়ি সদরে থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। এদিকে, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সক্ষম হলেও নিহতদের লাশ (মরদেহ) উদ্ধার করতে পারেনি গতকাল বুধবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা সময় পর্যন্ত। জানা গেছে, লাশ উদ্ধারের চেষ্ঠায় রাতে পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরা সেখানেই অবস্থান করবেন। সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা নিহতদের লাশ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে। তাই সহজেই লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না পুলিশের পক্ষে।

একটি স্থানীয় সুত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে রিপেল চাকমা ও বর্ষণ চাকমা বাসায় যাওয়ার পথে সশস্ত্র গ্রুপের সামনে পড়লে তারা দু’জনকে হত্যা করে। এ ঘটনার জন্য সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির ( জেএসএস) মূল দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের দায়ী করছে সংস্কারবাদী জেএসএস (এমএন লারমা) গ্রুপ। সংস্কারবাদী জেএসএস (এমএন লারমা) গ্রুপ এর পক্ষে বলা হয়েছে, মূলত এরা দু’জন আমাদের দলকে সাপোর্ট করার দায়ে সন্তু লারমার লোকজন তাদের হত্যা করে।’ একটি সূত্র জানায়, রিপেল চাকমা ইতোপূর্বে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এর সমর্থক বা কর্মি ছিলেন। সূত্র জানায়, এলাকাটি সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ মঞ্জুর আলম বলেন, ওই এলাকায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। তাই লাশ উদ্ধারে দেরী হচ্ছে। নিরাপত্তাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

এদিকে, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন পূর্বকোণকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপ্রিয় বাঘাইছড়িবাসী দাবি করে আসছে যে, বাঘাইছড়িতে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভাবে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হউক। কারণ, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে দূরে বাঘাইহাটে এবং লংগদুর অধিনে দূরছড়িতে সেনা ক্যাম্প থাকলেও বাঘাইছড়ি সদরে সেনা ক্যাম্প না থাকায় খুনাখুনির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যৌথ অভিযান পরিচালনা করা দরকার। এটি শান্তি প্রিয় পাহাড়ি বাঙালি জনগণের প্রাণের দাবি।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ছুফিউল্লাহ জানান, ‘জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) দুই সমর্থককে হত্যার ঘটনা জেনেছি। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

The Post Viewed By: 298 People

সম্পর্কিত পোস্ট