চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৩:৩২ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের এনআইডি: ইসির অফিস সহায়ক বরখাস্ত

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।

আজ মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসি উপসচিব আশরাফুল আলম এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করেন।

আজ ভোরে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও ল্যাপটপ গায়েব করার অভিযোগে অফিস সহায়ক জয়নালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদী হয়ে আজ ভোরে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নির্বাচন কমিশন আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় জয়নাল আবেদিন, তার দুই সহযোগী বিজয় দাস ও তার বোন সীমা দাস এবং আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বাকি দুজনের নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

এর আগে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাছানুজ্জামান বলেন, ‘গত তিন দিনে কক্সবাজার থেকে আটক হওয়া ছয় জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় জয়নালকে আটক করে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার হেফাজতে নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা একটি ল্যাপটপ ছিল। ‘লাইসেন্স করা ল্যাপটপটি ব্যবহার করে তারা এনআইড জালিয়াতি করেছে। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে ছবি তুলে এই ল্যাপটপ দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, নির্বাচন কমিশনের ল্যাপটপটি বন্ধু বিজয় দাসের কাছে রেখেছে সে। পরে বিজয় দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় সেটি তার কাছে নেই সেটি তার বোনে সুমাইয়ার কাছে আছে। পরে সুমাইয়াকেও আটক করা হয়।

গতকাল সোমবার রাতে জয়নালসহ তিনজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরি করে রোহিঙ্গাদের ভুয়া এনআইডি করে দেওয়ার অভিযোগ আছে।

সম্প্রতি রমজান বিবি নামের এক রোহিঙ্গা নারী ‘লাকী’ নাম দিয়ে স্মার্ট কার্ড উত্তোলনের জন্য তার এনআইডি নিয়ে গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান। সার্ভারে খোঁজ করলে লাকীর যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত আছে বলে দেখা যায়। লাকীর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে জানানো হয়, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কিংবা লাকীর নামে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়নি। কাগজপত্রে কোথাও কিছু নেই।

 

এ ঘটনায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি কোতোয়ালি থানা-পুলিশও তদন্ত শুরু করে। এতে দেখা যায়, অনেক রোহিঙ্গাই এভাবে ভুয়া এনআইডি করছেন।

পূর্বকোণ/পলাশ

 

The Post Viewed By: 173 People

সম্পর্কিত পোস্ট