চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২২ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

প্রকল্পে নেই, সংস্কার হচ্ছে না

বহদ্দারহাট মোড়ের একপাশ আরাকান সড়ক

আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত ছয়লেনের কাজ শুরু হলেও চার বছর ধরে বন্ধ থাকা বহদ্দারহাট মোড়ের এক পাশ সংস্কার করা হচ্ছে না। প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আগামী কয়েক মাসেও বহদ্দারহাট মোড়ের দুর্ভোগ কমছে না।

আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত ছয় লেন উন্নীত করার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু ছালেহ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পে বহদ্দারহাট মোড়ে বন্ধ থাকা এক পাশ সংস্কারের কোন ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র ফ্লাইওভারের নিচে যেখান থেকে সড়ক শুরু হয়েছে সেখান থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত রাখা হয়েছে। প্রকল্প প্রণয়নের সময় ফ্লাইওভারের নিচে সড়কের সংস্কার কাজ সিডিএ করার উল্লেখ থাকায় আলোচ্য প্রকল্পে ওই এলাকাকে বাদ রাখা হয়। তবে এখন বহদ্দারহাট মোড়কেও সম্পৃক্ত করে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করছে চসিক’।

আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত ছয়লেনের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। দ্রুত কাজ শেষ করতে গত আগস্টে ১২টি ঠিকাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে সেবা সংস্থাটি। সবগুলো ঠিকাদার সংস্থা সড়কে কাজ শুরু করছে।

আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট-কালুরঘাট পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এরমধ্যে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের একপাশ বন্ধ রয়েছে প্রায় চার বছর। ওয়াসার পাইপলাইন ও গ্যাসলাইন বসাতে এত দিন ধরে বন্ধ ছিল সড়কের এক পাশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার শেখ রাসেল (মদুনাঘাট) প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর জন্য ২০১৬ সালের শুরুতে আরাকান সড়কের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই কাপ্তাই রাস্তার মোড় পর্যন্ত একপাশ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে ওয়াসা। এরপর দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে ব্যস্ত সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ চলে। এরমধ্যে ফ্লাইওভারের র‌্যাম নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবরে বহদ্দারহাট মোড় থেকে টার্মিনালমুখী সড়কের এক পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাটমুখী যানবাহন বাস টার্মিনাল হয়ে নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে দিয়ে চলাচল করে আসছে। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নবনির্মিত র‌্যাম্পটি খুলে দেওয়া হলে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে। কিন্তু এক মাস মোড়ে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলের পর ওই একপাশে পুনরায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। মোড়ে কালভার্টে আন্ডারক্রসিং পাইপলাইন বসাতে সংস্থাটি সময় নিয়েছিল দেড় মাস। কিন্তু ওই দেড় মাসের স্থলে ২০ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো মোড়ের এক পাশ খুলে দেওয়া হয়নি। মোড়ের এক পাশ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় চার বছর ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করছে আরাকান সড়কের যাত্রীরা। এমনকি বন্ধ থাকা সড়কের এক পাশে ব্যবসাও অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে পাইপলাইনের কাজ শেষ করে ২০১৮ সালের মে মাসে সড়কটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। সড়ক সংস্কারের জন্য ক্ষতিপূরণের টাকাও দেওয়া হয়। এরপর সড়কটি চারলেন থেকে ছয়লেনে উন্নীত করতে বড় ধরনের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে চসিক। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৭১ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু ছালেহ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আরাকান সড়কের বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে চসিক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির দ্রুত শেষ করতে ১২টি ঠিকাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে চসিক। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে’।

The Post Viewed By: 1080 People

সম্পর্কিত পোস্ট