চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

জাহেদুল আলম, রাউজান

২৮ বছর পর দল পাচ্ছে নতুন সভাপতি, ২২ বছর পর সম্পাদক

আ.লীগের কাউন্সিল ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য রাউজানে

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত কাউন্সিল ও ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ কাউন্সিলে ২৮ বছর পর নতুন সভাপতি এবং ২২ বছর পর সাধারণ সম্পাদক পাচ্ছে রাউজান আওয়ামী লীগ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন মাঝি কে হচ্ছেন- এ আলোচনায় সরগরম এখন উপজেলা। তবে যারাই হোক, এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই মূল পদেই আসছে সম্পূর্ণ নতুন মুখ- এমনটাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে দলের কর্মীরা। তাই কে হবেন সভাপতি-সম্পাদক এমন আলোচনায় মুখর পুরো উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীরা। এদিকে এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে প্রত্যাশিত এ সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। কাজী আবদুল আবদুল ওহাবকে আহ্বায়ক ও আনোয়ারুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি প্রায় প্রতিদিনই করছেন সভা।

২১ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় রাউজান সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশাল প্যান্ডেল, রাঙামাটি সড়কের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ব্যাপক সাজসজ্জাসহ আনুষঙ্গিক নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রস্তুতি কমিটি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে উপজেলার ১৪ ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়। দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সালে দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধারে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করলে সহ-সভাপতি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন কামাল উদ্দিন আহমেদ। এ সম্মেলনে তিনি নিয়মিত সভাপতি হতে যাচ্ছেন, এমনটা অনেকটাই ধরে নিয়েছিল স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু তিনিও মারা যান গত জুলাই মাসে। অন্যদিকে ১৯৯৭ সাল থেকে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মুসলিম উদ্দিন খানের এখন তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ নেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও। তাছাড়া এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির ধারার রাজনীতি ছেড়ে অন্য নেতৃত্বের রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। এ কারণে এ সম্মেলনে তাকে নিয়ে কোন আলোচনা নেই তৃণমূল পর্যায়ে। সবকিছু মিলিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বদ্ধমূল ধারণা, এবার দীর্ঘদিন পর সভাপতি-সম্পাদক যে দু’জন আসছে, তারা নতুন মুখ।

পদপ্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে দলের সর্বোচ্চ নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির কাছে নানাভাবে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে প্রত্যাশিত পদে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে এ নিয়ে এখনও এ নেতা কাকে সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্বে চান, সেই বিষয়ে নিজের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে দেখা যায়নি। অন্য পদে প্রত্যাশীরাও বেশ কয়েকমাস ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন, জাতীয়-দলীয় কর্মসূচিগুলোতে সরব উপস্থিতি রেখে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যের মাধ্যমেও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তবে বর্তমান কমিটির অনেকে দলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা না রাখায় তারা এবার পদ-পদবি থেকে বাদ পড়তে পারেন-এমন আভাস মিলেছে। এদিকে ইতিমধ্যে সভাপতি-সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম নেতাকর্মীদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওহাব, উপজেলা আ.লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ কপিল উদ্দিন চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম আলোচিত হয়েছে তারা হলেন বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক বশির উদ্দিন খান, পৌরসভার ২য় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, বর্তমান সদস্য ও সাবেক সভাপতি পুত্র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক ভুপেশ বড়–য়া, বর্তমান দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও নোয়াজিষপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদার। এছাড়াও অন্য পদে পদপ্রত্যাশীরা হলেন, আলমগীর আলী, জাফর আহমদ, কামরুল হাসান বাহাদুর, ইরফান আহমদ চৌধুরী, ইফতেখার উদ্দিন দিলু, শাহ আলম চৌধুরী, এডভোকেট সমীর দাশগুপ্ত, জানে আলম জনি, রোকন উদ্দিন, দোস্ত মোহাম্মদ, আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান, শফিউল আলম শফি, নুরুল আবছার মিয়া, মাহাবুবুল আলম ও এস.এম বাবর।

প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর (শনিবার) উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, রেলপথ মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম. এ সালাম।

The Post Viewed By: 60 People

সম্পর্কিত পোস্ট