চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে এশিয়ার সবচেয়ে বড় সর্বধুনিক কসাইখানা হচ্ছে

চসিকের সাথে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারক চুক্তি শীঘ্রই

এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধুনিক কসাইখানা নির্মাণে শীঘ্রই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। ঔদিন নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় ৮৮ শতক জায়গা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বরাবরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে হস্তান্তর করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চসিকের এই জায়গার উপর এশিয়ার সবচেয়ে বড় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কসাইখানা নির্মিত হবে। গতকাল (শনিবার) সকালে টাইগারপাস সিটি মেয়রের কার্যালয়ে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে প্রকল্প পরিচালক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের মধ্যেকার মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাসেম, প্রজেক্ট পরিচালক পার্থ প্রদীপ সরকার, বিভাগীয় উপ-পরিচালক চট্টগ্রাম ডা. ফরহাদ আলী, প্রকল্পের চিপ টেকনিক্যাল কো-অডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক প্রমুখ। মন্ত্রণালয়ের লাইভস্টক এ্যান্ড ডেইরি ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এ প্রকল্পের আওতায় দেশের তিনটি স্থানে আধুনিক কসাইখানা নির্মিত হবে। এতে মোট প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ২ শত কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক এ অর্থ যোগান দেবে। তবে চট্টগ্রামে নির্মিতব্য কসাইখানার জন্য খরচ হবে ৮৮ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ১ ঘণ্টায় একসঙ্গে ১০০ পশু জবাই করা সম্ভব হবে। অপেক্ষায় রাখা যাবে ৩০০ পশু।

ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে অর্থাৎ হালালভাবে পশু জবাই, প্রয়োজনে জবাইকৃত পশুর মাংস ফ্রিজিং এ রাখার সুব্যবস্থা, পশুর রক্তকে পোলট্রি ফিডে রূপান্তর করা এবং অন্যান্য বর্জ্যগুলো শতভাগ রিসাইক্লিং ও ইটিপি করা হবে। এটাই হবে হাইজিনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আধুনিক কসাইখানাকে ঘিরে নগরীতে গবাদি পশু সংক্রান্ত একটি বড় মাপের ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হবে। এতে থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আইসোলেশন, পশুর খাবার, স্মার্ট স্টকিং স্পেস সুবিধা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, রক্ত ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট শৃঙ্খলা, এছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন ও জবাই এরিয়া করা হবে। পশুর নাড়িভুঁড়িসহ শিং ফেলে না দিয়ে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা থাকবে এই কসাইখানার আওতায়। এখানে পশু জবাই করার আগে একজন চিকিৎসক সে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জবাইয়ের পর এর মাংস পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও থাকবে।

মতবিনিময় কালে সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক কসাইখানা আছে। তবে মানসম্মত কোনো কসাইখানা নেই। অথচ আইনে স্বাস্থ্যকর কসাইখানায় পশুর জবাইয়ের ব্যাপারে বাধ্যবাদকতা আছে। তারপরও নগরে নির্ধারিত চসিকের কসাইখানায় পশু জবাই না করে যত্রতত্র পশু জবাই করা হয়। পশু জবাইয়ে শৃঙ্খলা আনায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই কসাইখানা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এইজন্য সিটি মেয়র প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

The Post Viewed By: 838 People

সম্পর্কিত পোস্ট