চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ

ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১১ নেতাকে আ. লীগের নোটিস

ফটিকছড়ির উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকে কারণ দর্শানো নোটিস দিয়েছে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে তাদের এই নোটিস দেয়া হয়। জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মাঈনুদ্দিন স্বাক্ষরিত নোটিস প্রাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বাকি ১০ নেতাকে দেয়া নোটিশে বলা হয়, গত ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নেয়ার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নিকট সুপারিশ করা হবে না তা এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলা হয়।

নোটিস পাঠানোর কথা স্বীকার করে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মাঈনুদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের ১১ নেতার কাছে কারণ দর্শানো নোটিস পাঠানো হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের মাধ্যমে নোটিসগুলো পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার কাছে কারণ দর্শানো নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে পাঠানো নোটিশের রিসিভ কপি এখনো তার হাতে আসেনি। নোটিসপ্রাপ্তরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ার, সদস্য মো. শাহজাহান ও এস এম বাকের এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু। চিঠিতে তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে অভিহিতি করা হয়। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবদুল মান্নান ও মো. শাহ নেওয়াজ এবং যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. জানে আলম চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রামে দক্ষিণ জেলার চারটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। বোয়ালখালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, বাঁশখালীতে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করেন জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম। লোহাগাড়ায় বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন এলডিপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জিয়াউল হক বাবুল। চন্দনাইশে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল জব্বার চৌধুরী বিজয়ী হন।

জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ পূর্বকোণকে বলেন, কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহীদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে দক্ষিণ জেলার কোন নেতাকে নোটিস দেয়া হয়েছে কিনা তার জানা নেই এবং নোটিশের কোন অনুলিপি তার কাছে আসেনি উল্লেখ করে বলেন, এখানে চারটি উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। এর মধ্যে দুই জন জেলা আওয়ামী লীগের পদবিধারী। বাকি দুইজনের পদ নেই। যাদের পদ নেই তারা তারা বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা কঠিন হবে।

The Post Viewed By: 3953 People

সম্পর্কিত পোস্ট