চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিসি ক্যামেরার আওতায় ল্যান্ডমার্ক সোসাইটি

১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া

পশ্চিম বাকলিয়ার ল্যান্ডমার্ক সোসাইটিকে এবার সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বাড়িওয়ালাদের উদ্যোগে এসব সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর আগে শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, ল্যান্ডমার্ক সোসাইটি একসময়ে বিদ্যুৎ মাঠ (ওয়াপদা মাঠ) নামে পরিচিত ছিল। মাঠে ছিল সন্তাসীদের আস্তানা। প্রকাশ্যে চলত মদ-জুয়ার আসর। সেই মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে বহুতল ভবন।
বাকলিয়া শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন ল্যান্ডমার্ক সোসাইটি। সোসাইটিতে ৩০ টি ভবনে এক হাজারের বেশি পরিবারের বসবাস রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত বছর ল্যান্ডমার্ক সোসাইটির এক ভবনে একটা মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সোসাইটির লোকজন ছাড়াও বহিরাগতদের আনাগোনা রয়েছে। রাত হলে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। লাশ উদ্ধারের পর কয়েকজন বাড়িওয়ালা নিজের উদ্যোগে নিজ নিজ ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তার জন্য এসব সিসি ক্যামরা বসানো হয়েছে।

ল্যান্ডমার্ক সোসাইটির সভাপতি আলহাজ এম এ জলিল চৌধুরী বলেন, ‘সোসাইটির ভবন মালিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সকলেই নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসাতে সম্মতি দেন। ইতিমধ্যেই কাজও শুরু হয়েছে। অনেক ভবনে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ভবনে ক্যামেরা লাগানো হবে।
সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর জন্য বাড়িওয়ালাদের উৎসাহ দিচ্ছি। আগে নিজের বাসায় ক্যামেরা লাগিয়েছি। পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামরা লাগানো হবে।
এমএস লায়লা ভবনের ভাড়াটিয়া হেফাজ উদ্দীন ও কানিজ সুলতানা বলেন, এই ভবনে ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এতে অনেকটা নিরাপত্তা বোধ করছি।

স্থানীয়রা জানায়, বাকলিয়ার কয়েকটি স্থান মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বস্তি ও আবাসিক এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা বেশি রয়েছে। ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে একাধিক দফা সংঘাত-সংঘর্ষ ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। এছাড়াও স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত বা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। এসব কথা বিবেচনা করে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানান সোসাইটির বাসিন্দা ও ভবন মালিকেরা।
এর আগে গত বছর শাহ আমানত হাইজিং সোসাইটিতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। সোসাইটির ভেতরে ৬-৭টি গলি, চলাচলের প্রধান সড়ক আরাকান সড়ক ও সোসাইটির গলির মুখে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এরপর এবার ল্যান্ডমার্ক সোসাইটিতে লাগানো হল সিসি ক্যামেরা।

শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আনিচ ওয়ারেচী বলেন, লান্ডমার্ক সোসাইটি আমাদের পাশে অবস্থিত। বাড়িওয়ালা নিজেদের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছে। আশা করছি, দেখাদেখিতে বাকলিয়ার প্রতিটি এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। অপরাধমূলক কর্মকা- অনেকটা কমে আসবে।

১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম আরিফুল ইসলাম ডিউক বলেন, ল্যান্ডমার্ক সোসাইটির যোগাযোগব্যবস্থা অনেক উন্নত। সোসাইটির বিভিন্ন ভবনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর ফলে নিরাপত্তা ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। অন্যান্য আবাসিক পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে পুরো বাকলিয়া এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

The Post Viewed By: 102 People

সম্পর্কিত পোস্ট