চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে হেফাজতের বিক্ষোভ

কাশ্মীরে মুসলিম নির্যাতন ও আসামে বিতর্কিত নাগরিক তালিকার প্রতিবাদ

কাশ্মীরে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ, কাশ্মীরীদের স্বাধীনতার দাবিতে এবং আসামে বিতর্কিত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে ১৯ লাখ নাগরিককে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার বাদজুমা হেফাজতে ইসলাম মহানগরীর উদ্যোগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইট চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও সমাবেশ শেষে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, শায়খ জুনাইদ বাবুনগরী। প্রধান অতিথি বলেন, ভারতের বিজেপি সরকার সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে কাশ্মীরকে অচল করে দেয়া হয়েছে। হাজর হাজার মানুষকে

গ্রেপ্তার করেছে। ‘মজলুম মুসলমানদের উপর ভারতের এ অমানবিক অত্যাচার সহ্য করা যায় না। জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখন দিল্লীর আধিপত্য ও দাসত্বের শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ার লড়াইয়ে জেগে উঠেছে। কাশ্মীরের মুসলমানরা স্বাধীতাকামী মুক্তিযোদ্ধা। এদেরকে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী বানিয়ে দমানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতকে একথা মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতাকামী কোনো জাতিকে কেউ চিরদিন দমিয়ে রাখতে পারে না। ইংরেজ বেনিয়ারাও পারেনি। সুতরাং কাশ্মীর একদিন স্বাধীন হবেই কিন্তু ভারত টুকরা টুকরা হয়ে যাবে। গায়ের জোরে আগ্রাসন চলানোর ক্ষমতা দিল্লীর আর থাকবেনা। তিনি কাশ্মীরের জনগণের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে মুসলিম দেশসমূহ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে জোরদার ভুমিকা পালন করার আহবান জানান।

বাবুনগরী আরো বলেন, বিজেপির প্রধান অমিত শাহ ঘোষণা করেছে, আসামের ৪০ লাখ বহিরাগতকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আগত হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান ভারতে আশ্রয় পাবে, কিন্তু মুসলিমরা নয়। তারা নাগরিকদের মাঝে বিভাজন তৈরির চরম সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। আসামের ১৯ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। নাগরিকত্ব ছাড়া লোকগুলো রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে। আর রাষ্ট্রহীন এই মানুষগুলোকে তারা বাংলাদেশেই ঠেলে দিয়ে সংঘাত তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ভারতের কোন রকম আধিপত্য, অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবে না।জুনাইদ বাবুনগরী বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি ভারতীয় সকল পণ্য বর্জন করার আহবান জানিয়ে বলেন, এটা মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম (পীর সাহেব ফিরোজশাহ) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, মাওলানা কারী ফজলুল করিম জিহাদী, দারুল মায়ারিফের মাওলানা এনামুল হক মাদানী। মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ফায়সাল, মাওলানা আ ন ম আহদুল্লাহ ও মাওলানা ইকবাল খলিলের যৌথ পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, দামপাড়া মাদরাসার মোতাওয়ালীø মোহাম্মদ আবু মনসুর, হেফাজত নেতা মাওলানা মোজাম্মেল হক, মাওলানা আবদুল মাবুদ, মাওলানা কারী মুবিনুল হব, মাওলানা সোহাইল সালেহ, মাওলানা সরোয়ার আলম, মাওলানা শামসুল হক জালালাবাদী, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মনসুরুল হক, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা আবু তাহের ওসমানী, মাওলানা জাকারিয়া মাদানী, মাওলানা জুনাইদ জওহর, মাওলানা ওসমান কাসেমী, মাওলানা আশরাফ বিন ইয়াকুব, মাওলানা মোস্তাক মাদানী, মাওলানা কারী আবু রায়হান প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি

The Post Viewed By: 93 People

সম্পর্কিত পোস্ট