চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

কর্নফুলীর ভাঙনরোধ : দেড় বছর ধরে ফাইলবন্দী ৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প

বোয়ালখালী ও রাউজানে কর্ণফুলী নদী এবং খালের ভাঙনরোধে ৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প আটকে পড়েছে দেড় বছর ধরে। বোয়ালখালী আসনের সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদলের অনুরোধে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রকল্পটি আলোর মুখ না দেখলেও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী আংশিক) আসনের সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বদান্যতায় শ্রীপুর-চরণদ্বীপ দুটি ইউনিয়নে ভাঙনরোধে ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর ঠেগামুখ থেকে মোহনা পর্যন্ত সার্ভে করা হচ্ছে। নদীর সংযুক্ত সকল শাখা নদী ও খালের বিরাজমান অবস্থা, ভাঙনরোধ এবং প্রতিরক্ষার সুপারিশ থাকবে। সে অনুযায়ী কর্ণফুলী ছাড়াও শাখা নদী বা খালের ভাঙনরোধে একসঙ্গে প্রকল্প নেওয়া হবে। ৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প হয়তো কিছুটা ঝিমিয়ে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপের ঘাটিয়ালপাড়া ও ফখিরাখালীর দুটি অংশে ভাঙনরোধে সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। রাঙ্গুনিয়ার প্রকল্প থেকে এসব কাজ করা হচ্ছে। পাউবো সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের এপ্রিল সেই ডিপিপি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে প্রকল্পের আর কোন অগ্রগতি নেই।

বোয়ালখালীর ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী এবং বোয়ালখালী খাল। পূর্বে পাহাড়শ্রেণি। নদী এবং খালের তীব্র ভাঙন বোয়ালখালীবাসীর প্রধান সমস্যা। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বোয়ালখালী ও রাউজান অংশের কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন খালের ভাঙনরোধে ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পটির পর বড় কোন প্রকল্প আর দেখা যায়নি। নদী-খালের ভাঙন ভোটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ৩৫১ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পটি জমা দেওয়ার পর ৩১ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রেরণ করা হয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ-পাঁচলাইশ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদলের ইচ্ছায় ৩১ কোটি টাকার মিনি প্রকল্পটি জমা দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর সেই প্রকল্পটিরও আঁতুড়ঘরে অপমৃত্যু হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর বোয়ালখালী অংশের চরণদ্বীপ ঘাটিয়ালপাড়া সংলগ্ন এলাকা, বোয়ালখালী খালের ননাইয়ারমারঘাট, দুমুখো খাল, ছন্দরিয়া খালের বিনয় বাঁশী জলদাসের বাড়ির এলাকাসহ ৭টি পয়েন্টে নদী ও খালের তীব্র ভাঙন দীর্ঘদিনের। ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, জমা-জমি। নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। বোয়ালখালীর বিভিন্ন অংশে ৭ প্যাকেজে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মেগাপ্রকল্পের গতি আর এগোয়নি। মেগাপ্রকল্পটি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভাঙনরোধে বোয়ালখালী অংশে বড় প্রকল্প না হলেও চট্টগ্রাম-৭ নির্বাচনী এলাকার সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নির্বাচনী এলাকা শ্রীপুর-খরণদ্বীপে ভাঙনরোধে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একটি প্রকল্প ইতিমধ্যেই চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী ও ভাঙালজুড়ি খালের ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে কয়েকশ পরিবার।

 

 

 

 

The Post Viewed By: 500 People

সম্পর্কিত পোস্ট