চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১৩ এএম

ইফতেখারুল ইসলাম

পাঁচফুট কালভার্ট বিশ ফুট খালে!

জলাবদ্ধতার শঙ্কা বাহির সিগন্যাল এলাকায় ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে সিটি মেয়রকে চিঠি

আরাকান সড়কের বাহির সিগন্যাল সংলগ্ন এলাকায় নির্মাধীন কালভার্টটি ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্যে পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ ফুটের কালভার্টটির প্রশস্ততা আরো বাড়ানো উচিত। না হয় এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান হবে না। এ বিষয়ে মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকে সিটি মেয়রকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন পূর্বকোণকে বলেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নিত্যযাত্রীরা বলেন, বছর পাঁচেক আগে সিডিএ রাস্তা মেরামতের নামে প্রায় দুই বছরের অধিক সময় আরাকান সড়কের যাত্রীসাধারণকে অমানবিক কষ্ট দিয়েছে। এরপর বছর দেড়েক সময় মানুষ কিছুটা শান্তিতে যাতায়াত করেছে। এরপর চট্টগ্রাম ওয়াসা রাস্তা খোঁড়ার কাজ শুরু করে। সাড়ে তিন বছরেও তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি। সম্প্রতি সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বহদ্দারহাট হতে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়কের এ কাজে। কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথার পেট্রোল পাম্প এলাকায় রয়েছে বি এস সিট বর্ণিত একটি বহু পুরোনো খাল যার প্রশস্ততা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট। এটি বামন শাহী প্রকাশ নয়া খালের একটি শাখা খাল। যা মূল খাল হতে আরাকান সড়ক মাত্র ২০০ ফুট দূরে। এই শাখা খালটি কোথাও ২০ ফুট কোথাও ৩০ ফুট। এই শাখা দিয়ে আরাকান সড়কে উত্তরাংশের মোহরা ভারী শিল্প এলাকার বর্জ্য, বৃষ্টির পানি এবং জোয়ারভাটার পানি নিষ্কাশন হয়। আমাবশ্যা ও পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা ডুবে যায়। মূলত আরাকান সড়কের কালভার্টটি পানি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় কারণে এই সমস্যা আরো তীব্র আকার ধারণ করছে। সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন সেখানে পাঁচ ফুট প্রশস্থের একটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ করছে। কালভার্টটির একটি অংশে ঢালাইও দেয়া হয়েছে। বিশাল একটি এলাকার পানি এই ছোট নালা দিয়ে নিষ্কাশন কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া জলাবদ্ধতার সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।

পশ্চিম মোহরা মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিক কোম্পানি পূর্বকোণকে বলেন, এবিষয়ে সিটি মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিতভাবে তাকে জানানো হয়েছে। কারণ ২০ ফুট প্রশস্থ খালের পানি পাঁচ ফুট প্রশস্থ নালার মত কালভার্ট দিয়ে কখনোই নিষ্কাশন হবে না। তাছাড়া আরাকান রোড দীর্ঘ দিন পর সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। কিছুদিন পর যদি পানি নিষ্কাশনের জন্য এই কালভার্টটি যদি বছর খানেক পর আবারো ভেঙে বড় করতে হয়, তাহলে একে তো অর্থের অপচয় হবে। দ্বিতীয়ত মানুষকে আবারো দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তিনি জানান, বামন শাহী খালের এই শাখা খালটি মোহরা শিল্প এলাকা ও দোহাজারী রেল লাইন ও আরাকান সড়কের উত্তরাংশের পানি চলাচল করে। কাজীর হাটেও এই ধরনের একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এসব কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে অথচ দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেই। এখনো সময় আছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন করার মত প্রশস্থ করে নির্মাণ করার দাবি জানান তিনি।

চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সিদ্দিক পূর্বকোণকে বলেন, রোড লেবেল থেকে প্রায় ছয় ফুট নিচে প্রায় চার ফুট ব্যাসের একটি পাইপ ছিল। সেই পাইপের কারণে এতদিন পানির সমস্যা হত। এখন যেহেতু পানি চলাচলের পথ পাঁচ ফুট প্রশস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় আর পানির সমস্যা থাকবে না। তারা অহেতুক ভয় পাচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, বামনশাহী খাল থেকে যে শাখা খালটি আরাকান সড়ক পার হয়ে ওইদিকে আর যায়নি। সেদিকে সরু নালা হয়ে গেছে। তাই কালভার্টটি আগের প্রশস্ততা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে। এখন যেহেতু সড়ক উঁচু হয়ে যাচ্ছে তাই ওই এলাকায় ভবিষ্যতে আর জলজট হবে না। তবুও যেহেতু মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাই বিষয়টি আরেকটু খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

The Post Viewed By: 962 People

সম্পর্কিত পোস্ট