চট্টগ্রাম সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেখানে নারীরা মাদক বিক্রেতা

 

 

 

নারীরা সমাজের সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে তা লক্ষ্যণীয় বটে। তাই বলে মরণনেশা ইয়াবা তথা মাদক ব্যবসার মতো অপকর্মেও নারীরা এগিয়ে যাবে এটা কারও কাম্য নয়। অথচ এমনটিই হচ্ছে। নদীবেষ্টিত জেলা মুন্সীগঞ্জের অনেক এলাকায় GLb চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বেশ কয়েকজন নারী। যাদের কেউ কেউ মাফিয়া ডনের মতো করে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। নারী হওয়ার সুবাদে প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও পাচ্ছে নানা সুযোগ ও সহানুভূতি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়েই অনায়াসে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।

সম্প্রতি কয়েকদিন মুন্সীগঞ্জ শহর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ও স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীরা আড়ালে থেকে এখন নারীদের দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিছু এলাকায় এক শ্রেণির মাদক ব্যবসায়ী কৌশল পাল্টে তিন-চারটি বিয়ে করছে তার স্ত্রীদের দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য। অনেক পরিবারে সব মেয়েরাই মাদক কারবারে জড়িত। এ ছাড়াও কোনো বাধা ছাড়াই মাদকের চোরাচালান বহন ও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে অনেক নারীকে নানা কৌশলে জিম্মি করেও মাদক ব্যবসায় বাধ্য করা হয় বলেও জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের তৎপরতা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে। নারীদেরও তারা কৌশল হিসেবে কাজে লাগায়। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় ইতঃপূর্বেও এ জেলায় একাধিক নারী গ্রেফতার হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, লৌহজংয়ের মাহমুদপট্টির মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে এক শ্রেণির নারী। মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের স্ত্রী বা পরিবারের নারী সদস্যদের দিয়ে ইয়াবা-ফেনসিডিলের কারবার চালাচ্ছে। এখানকার কিছু মাদক ব্যবসায়ী তিন-চারটি বিয়ে করে ওই নারীদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় নিযুক্ত করেছে। পুরুষরা আড়ালে থেকে নারীদের দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জের নতুনগাঁও এলাকার একজন মাদকসেবী ও বিক্রেতা নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, এক শ্রেণির মাদক ডিলার তাদের নিযুক্ত তরুণ সহযোগীদের দিয়ে টার্গেট করে তরুণী বা নারীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ছে। এরপর প্রেমের ছলনায় কাছাকাছি গিয়ে কৌশলে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করছে। তারপর সেই ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অনেক তরুণী বা নারীকে ইয়াবা-ফেনসিডিল বিক্রি ও বহনে বাধ্য করা হয়। এমনকি তাদের ওপর শারীরিকভাবেও নানা নির্যাতন চালায় মাদক ডিলাররা। তবে কিছু ক্ষেত্রে আবার এক শ্রেণির নারী নিজেরাই মাদক ব্যবসার ডিলার বা হোতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের গ্রুপে অনেক ছেলেদের মাদক ব্যবসায় কাজে লাগায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত রুমা। সে আরেক মাদকের ডিলার মান্নানের সাবেক স্ত্রী। রুমা দ্বিতীয় বিয়ে করে ভাসানী নামে একজনকে। এই ভাসানীও মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তবে ভাসানী বর্তমানে বিদেশে আছে।

মুন্সীগঞ্জের নতুনগাঁও এলাকায় আরেক মাদক কারবারি হলো শম্পা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শম্পা মাদক ব্যবসা ছাড়াও তরুণীদের দিয়ে অসামাজিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করে। তবে শম্পার উঠাবসা শহরের ওপরতলার মানুষদের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন একজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভাঙিয়েও চলে বলে স্থানীয় অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। অন্যদিকে সিরাজদিখান এলাকায় একটি পরিবারের তিন বোন রেহানা শেখ ওরফে সুন্দরী, নাফায়া আক্তার নাফসি ও সোমা আক্তার মরণনেশা ইয়াবাসহ নানা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া লৌহজংয়ের মাহমুদপট্টির চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন ও মাতিন তাদের পরিবারের মেয়েদের দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। হুমায়ুন বর্তমানে জেলে এবং মাতিন জেল থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। মাতিনের তিন বোনই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে এখন জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, সড়কপথে মাদকের চালান বহনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে সুন্দরী বা স্মার্ট তরুণী বা নারীদের। যাদের কেউ কেউ বোরকা পড়ে মাদকের চালান আনা-নেওয়া করে থাকে। এই নারীরা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।

 

 

পূর্বকোণ/আফছার

 

 

The Post Viewed By: 100 People

সম্পর্কিত পোস্ট