চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার ১০ ঘণ্টার চরম দুর্ভোগ

পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আন্দোলনরত সংগঠন চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। তবে গতকাল সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো পূরণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তার আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’ এর আগে রবিবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকে ৯ জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে, ধর্মঘটের কারণে নগরে গণপরিবহন সংকট দেখা দেয়। ফলে চাকরীজীবী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় গণপরিবহনের দেখা মেলে।
এদিকে, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলায় যাত্রী ও পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। গতকাল ভোর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর ছাড়া বাকি নয় জেলায় এই ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু হয়। ধর্মঘটের কারণে নগরীর মিনিবাস, হিউম্যান হলারসহ অধিকাংশ গণপরিবহন চলাচল করেনি। গণপরিবহন সংকটে চাকরীজীবী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ। মাঝে মধ্যে দুয়েকটি মিনিবাসের দেখা মিললেও সেগুলোতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় দেখা গেছে। তবে বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যায় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। নয় দফা দাবি মেনে নিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সংগঠনটি।

এদিকে এ দাবি অযৌক্তিক ও বেআইনি বলে ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রাম বাস মিনিবাস হিউম্যান হলার মালিক সমিতি। তারা ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করায় নগরে সীমিত সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করেছিল।

গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ সূত্র জানায়, তাদের ৯ দফা দাবি হলো- গণ ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ করা, জরিমানা মওকুফের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করা, বিআরটিএ ও জেলা ম্যাজিট্রেট কর্তৃক ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগ করে গণ ও পণ্য পরিবহনে কোনও অতিরিক্ত জরিমানা আদায় না করা, হাইওয়ে ও থানা পুলিশ কর্তৃক গাড়ি জব্দ ও রিকুইজিশন বন্ধ করা, চট্টগ্রাম মেট্টো-এলাকায় গাড়ির ইকোনোমিক লাইফের অজুহাত দেখিয়ে ফিটনেস ও পারমিট নবায়ন বন্ধ না রাখা, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক যান্ত্রিক ক্রুটিযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্যকোন অজুহাত দেখিয়ে গণ ও পণ্য পরিবহন টু বা ডাম্পিং না করা, ড্রাইভার কর্তৃক চালিত গাড়ির রেকার ভাড়া আদায় না করা, সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা ও কাগজপত্র হালনাগাদের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি বন্ধ করা।

পটিয়ায় পরিবহন ধর্মঘটে পথে পথে মানুষের দুর্ভোগ : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ধর্মঘট শুরু হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। তবে সকাল থেকে সিএনজি ও চার চাকার লেগুনা, পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যস্থলে যেতে হয়েছে।

রাউজান : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বাস মালিকদের ৯ দফা দাাবিতে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটে গতকাল রবিবার চট্টগাম রাঙামাটি সড়ক ও কাপ্তাই সড়কের রাউজান অংশে দিনভর কোন বাস চলাচল করেনি। রাঙামাটি সড়কের রাউজান জলিল নগর, মুন্সিরঘাটা থেকে কোন বাস চট্টগাম শহরে আসা যাওয়া করেনি। কাপ্তাই সড়কেও দিনভর বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। এতে বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষেরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা শিক্ষকরা সকালে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে বিলম্ব হয়। রাউজান থেকে যারা শহরের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন তাদেরও গণপরিবহনের অভাবে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেকে অতি প্রয়োজনে একেকটি ছোট গাড়ি বদল করে শহরে আসা যাওয়া করেন। রাউজান দারুল ইসলাম মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিক আহমদ ওসমানি বলেন, বাসের অভাবে কর্মস্থলে আসতে অনেক কষ্ট ও সময় ব্যয় হয়েছে। এব্যাপারে চট্টগাম রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোসেন কোম্পানি বলেন, ৯ দফা দাবি নিয়ে ডাকা ধর্মঘটকে সংহতি জানিয়ে আমাদের সংগঠনের কোন যানবাহন রাস্তায় নামেনি। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
হাটহাজারী : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। তবে দূরপাল্লার বাস না ছাড়লেও পুরো হাটহাজারী দাপিয়ে বেড়ায় সিএনজি অটোরিক্সা। সকালে গণপরিবহন সংকটে চাকরীজীবী, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা ভাড়া গুণতে হয়েছে দ্বিগুণ। সকাল থেকেই হাটহাজারীর বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা গেছে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে হাটহাজারী টু অক্সিজেনের কোন বাসই ছাড়েনি।

চন্দনাইশ : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় চন্দনাইশ উপজেলায়ও ৯ দফা দাবিতে পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা পরিববহন ধর্মঘট পালিত হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলা পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট এলাকায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মিছিল বের করা হয়। মালিক সমিতির সভাপতি নিয়াজুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন নুরুন্নবী, শিমুল ধর, অহিদুল আলম, জামাল উদ্দিন, ফরিদুল ইসলাম, রুপক কুমার নাথ, আছাহাব মিয়া, ইসহাক মেম্বার, আবু ছালেক প্রমুখ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দূর-পাল্লার তেমন কোন যানবাহন চলাচল না করলেও সিএনজি ও চার চাকার হালকা যানবাহনগুলো চলাচল করেছে। যাত্রীবাহী বাস কিংবা চেয়ার কোচ ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রাখায় যাত্রী সাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই সুযোগে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে যাত্রীদেরকে। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাখান : তথাকথিত সংগঠন চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাখ্যান করেছে বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদসহ সাধারণ জনগণ। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে সকাল থেকে দুরপাল্লার বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার, ট্যাংক লরিসহ গণ ও পণ্য পরিবহন অবাধে চলাচল করেছে। সকাল ১০টার দিকে নগরীর নিমতলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি গেট দিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলে বাঁধা দেয় ধর্মঘট আহবানকারীরা। পরে ধর্মঘট বিরোধী বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতিরোধের মুখে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর থেকে নগরীসহ কোথাও গণ ও পণ্য পরিবহন চলাচলে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আবদুল নবী লেদু, সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ফ্ল্যাটবেড ওনার্স এসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাশেমসহ নেতৃবৃন্দরা ধর্মঘটের বিরুদ্ধে বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 493 People

সম্পর্কিত পোস্ট