চট্টগ্রাম সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

সর্বশেষ:

বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ শুরু

এন্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগী বেশি চট্টগ্রামের ১০ এলাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর, ২০২৩ | ৫:০১ অপরাহ্ণ

নগরীর ছয় এলাকা এবং চট্টগ্রামের চার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে। যার কারণে এসব এলাকায় একাধিক এন্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়েছে, এমন রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

 

অবশ্য, এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, অঞ্চলগুলোতে ফার্মেসির সংখ্যা বেশি থাকায় অবাধে এবং নিয়ন্ত্রণহীভাবে বিক্রি করা হয় এন্টিবায়োটিক। এর কারণে খেসারত দিতে হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী রোগীদের। পাশাপাশি একাধিক এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা রোগীকে তীব্র সংক্রমণ ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

 

২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা চট্টগ্রামের সহস্রাধিক রোগীর মধ্যে চালানো গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘প্লস ওয়ান’ এ প্রকাশিত গবেষণাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের গবেষকরা পরিচালনা করেন।

 

গবেষণায় উঠে আসে, চট্টগ্রামের ৭০ ভাগ মানুষের শরীরেই এন্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। মানুষের শরীরে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তিশালী অণুজীব ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

 

গবেষণার একটি অংশে এন্টিবায়োটিক কোন কোন অংশে বেশি, তা চিহ্নিত করতে ‘এন্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট ম্যাপিং’ করা হয়। তাতে দেখা যায়, নগরীর আগ্রাবাদ, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ, হালিশহর, বায়েজিদ ও বাকলিয়ায় সবচেয়ে বেশি এন্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়া উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, পটিয়া, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ এলাকাতেও মিলেছে এন্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগীর সংখ্যা।

এমন বাস্তবতার মধ্যেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ। সপ্তাহ উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সকলে মিলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করি।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিবছরের মতো এ বছরও ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর এন্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ পালন করছে। এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (অকার্যকারিতা) সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য চিকিৎসকসহ সবপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস, ফার্মাসিস্টদের সংগঠন এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট