চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার

কক্সবাজারে মালিকানার ফাঁদে সড়ক; ১০০ মিটারও ভাল নেই

সড়কের কান্না থামাবে কে ?

সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেরই ধারণা কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক পৌরসভার অধীন। আবার অনেকেই জানেন এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ)। কিন্তু প্রধান সড়ক এখন দুই প্রতিষ্ঠানের কারোরই নয়। বর্তমানে কউকের উন্নয়নসংক্রান্ত ফাইলে বন্দী হয়ে সড়কটি ঘুরছে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে। মালিকানা পালাবদলের খপ্পরে পড়ে সড়কটির বর্তমানে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে সরকারের অর্জনগুলো সড়কের খানাখন্দে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে মেরামতবিহীন থাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। খানাখন্দে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। কিন্তু এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একজন সচেতন নাগরিক জানান, প্রধান সড়ক সওজের। এ প্রতিষ্ঠানটি সবসময় প্রধন সড়ক নিয়ে অবহেলা করে। বর্তমানে সড়কটি উন্নয়নের জন্য কউক উদ্যোগ নিয়েছে এজন্য কউককে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘসময় লাগবে। এই সময়ে সড়কটি কি তাহলে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকবে ?
নাগরিক আন্দোলনের নেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, সড়কটি কাগজে-কলমে কউককে হস্তান্তরের আগে থেকেই খানাখন্দে ভরপুর। এখন ভাঙা সড়ক চলাচল উপযোগী করতে মেরামত করার অর্থ কোথায় পাবে কউক। তাই মেরামত করার দায়িত্ব সওজের রাখা উচিত ছিল। কারণ, তাদের মেরামত সংক্রান্ত যথেষ্ট ফান্ড রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হলিডে মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কে টানা ১০০ মিটার রাস্তাও ভাল নেই। পৌরসভার কার্যালয় থেকেই সড়কের ভাঙা অংশ শুরু। সেবামূলক এই কার্যালয়ের সামনে বড় বড় বেশ কয়েকটি গর্ত তৈরি হয়েছে। পৌরসভার সামনে থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত শত শত গর্ত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পৌরসভার সামনে, বিলকিস মার্কেটের সামনে, ফজল মার্কেটের সামনে, বাজারঘাটা, কালুর দোকান বাজারের সামনে, খুরুশকুল সড়কের প্রবেশমুখে, টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে, সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সামনে, আলিরজাহাল, সিটি কলেজ গেইটের সামনে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে, বার্মিজ মার্কেটের সামনে ও বাসটার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে সবচেয়ে বেশি খানাখন্দের চিত্র দেখা গেছে।
খুরুশকুল সড়কের প্রবেশমুখে, টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে ও সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সামনের রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্তে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছে যাত্রীরা।

সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সামনে প্রধান সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্ত নিয়ে ওই এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মামুন বলেন, চারদিন আগে পরপর দুটি টমটম (ইজিবাইক) উল্টে গিয়েছিল। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। প্রায় সময় এই গর্তটিতে গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

টমটম চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, হলিডে মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্পট তৈরি হয়েছে যেখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের পাশাপাশি যাত্রীরাও চলাচলের সময় চরম আতঙ্কে থাকে। কিন্তু এ দুঃখ কে বুঝবে ?
কলেজছাত্র তুষার মাহমুদ জানান, মাসখানেক আগে কলেজে যাওয়ার সময় টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে আমাদের টমটম উল্টে গিয়েছিল। আহত হওয়ায় ওইদিন আর কলেজে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এই সড়কে চলাচলের সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে রোগী ও বয়স্ক লোকজন। বেশি কষ্ট পায় গর্ভবতী নারীরা। যে রোগী একবার প্রধান সড়ক দিয়ে হাসপাতালে যায়, সে আর দ্বিতীয়বার এই সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া করে না। তারা বাধ্য হয়ে কলাতলী সড়ক হয়ে সদর হাসপাতাল বা অন্য বেসরকারি হাসপাতালে যায়। তবে প্রধান সড়ক ছাড়া অন্য সড়কগুলোর অবস্থাও কম ভয়াবহ নয়। তাই হাসপাতালে পৌঁছার আগে সড়ক নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিতে হয় রোগীদের।

মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, কখন প্রকল্প হবে সেটার দিকে চেয়ে থাকলে-তো পুরো সড়কজুড়ে পুকুর তৈরি হবে। চলাচলের উপযোগী করতে মেরামতের জন্য বেশি টাকার দরকার নেই। শুধু দরকার সদিচ্ছার। সওজ চাইলে সড়কটি নিয়মিত মেরামত করা কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু সওজ বা অন্যকেউ জনগণের দুঃখ-দুর্ভোগ বুঝতে চায় না। যদি তারা এই সড়ক দিয়ে ছোট গাড়ি নিয়ে একবার চলাচল করতো তাহলে বুঝতে পারতো মানুষ কি পরিমাণ কষ্টে আছে।
আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, কখন চার লেন হবে, আধুনিক রাস্তা হবে এই স্বপ্ন না দেখিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি চলাচল উপযোগী করাই প্রধান কাজ। প্রতিদিন যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে তা অতীতের সব রেকর্ডকে হার মানাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা আ.লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। মানুষ চলাচলে অনেক কষ্ট পাচ্ছে। কোনো সুস্থ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এই দুর্ভোগের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, কউক হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাস স্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদনও লাভ করেছে। খুব শীঘ্রই উক্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 213 People

সম্পর্কিত পোস্ট