চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১:০২ পূর্বাহ্ণ

জাহেদুল আলম, রাউজান

দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

রাউজানে এবার ২৩০ ম-প

রাউজানে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কারিগররা রাতদিন পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

তবে বিভিন্ন জনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দুর্গাপূজা অত্যাসন্ন হওয়ায় তাদের প্রতিমা তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। মূল প্রতিমা তৈরিশেষে এখন চলছে প্রতিমার গায়ে রং লাগানো ও প্রতিমার সাজসজ্জার প্রলেপ।
সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতবছর রাউজান উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে পূজাম-পের সংখ্যা ছিল ২২৯টি। এবার ২৩০টি পূজাম-পে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে উপজেলা ও দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে। এদিকে আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ দুর্গোৎসবকে উৎসবমুখর করে তুলতে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি দেখা গেছে প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে। এছাড়াও মন্দির ও ম-প বসানোর নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ।

নোয়াপাড়া পথেরহাট পল্লী মঙ্গল সমিতির গৌরাঙ্গ বাড়ি প্রাঙ্গণের শিল্পালয়ে ঢাকার শরিয়তপুর থেকে আসা অনিল পাল নামের মৃৎশিল্পী কমল পাল বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাউজানের বিভিন্ন ম-পের জন্য প্রতিবছর ৫০-৬০টি দুর্গা, তার সেট গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী অর্ডার থাকে আমার। এছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারী এলাকার বেশকিছু ম-পের অর্ডারও রয়েছে। বহু বছর ধরে এ দুর্গা সেট তৈরি করে আসছি। এবারও দুর্গা সেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রুবেল বৈদ্য বলেন, ‘বাংলা সনের শ্রাবণ-ভাদ্র এই দুইমাস রাউজানে বিভিন্ন মন্দিরের সংরক্ষিত জায়গায় উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পূজা পালন করে আসছি আমরা সনাতনীরা। এটি সম্ভব হয়েছে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তিনি জানান, উপজেলার দক্ষিণাংশে ১০০টির বেশি দুর্গা তৈরির কাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসন, রাউজান থানা ও উপজেলার উত্তর-দক্ষিণ পূজা উদযাপন পরিষদের নজরদারিতে সঠিকভাবে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ করতে পারছে।’ এদিকে পৌরসভার ফকির হাট, কু-েশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকা ও ডাবুয়া, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মিয়া মার্কেটের শিল্পালয়গুলোতেও পুরোদমে চলছে দুর্গা সেট তৈরির কাজ। এছাড়া পূজার জন্য শহরের স্বনামধন্য লাইটিং, সাউন্ড, মিউজিশিয়ান প্রতিষ্ঠান, উপজেলার মাইক-সাউন্ড, বাদ্যযন্ত্র, ডেকোরেশন বুকিং, প্রচারপত্র, লিফলেট, ডিজিটাল ব্যানার তৈরির ব্যস্ততাও দেখা গেছে প্রায় প্রত্যেকটি সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটিগুলোতে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রিয়তোষ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুমন দে, দক্ষিণ রাউজান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রকাশ শীল, সাধারণ সম্পাদক ম্যালকম চক্রবর্তী ও উপজেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন দে বলেন, ‘গত বছর ২২৯টি ম-পে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা হয়েছে। এ বছর আরো ১-২টি বেশি অর্থাৎ ২৩০-২৩১টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব পালন করা হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 203 People

সম্পর্কিত পোস্ট