চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাদ বাগানেই ছবিলার সময় কাটে

ওয়ার্ড ২৯ পশ্চিম মাদারবাড়ি

পুরো ছাদে ছড়িয়ে পড়েছে সোনালি রোদ। এখানে লাগানো বেশ কয়েকটা গাছেই ফুটেছে ফুল। নানা ফুলের নানা রং। একপাশে গাছে ফুটে আছে বেশ কিছু শিউলি। অন্যপাশে ফল ঝুলছে মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা ও জলপাই গাছে। শুধু তাই নয়- পুরো বাগান জুড়ে আছে নানারকম ফুল ও ফলের চারা। ফুলের মধ্যে আছে হাসনাহেনা, দোলনচাঁপা, গোলাপ, করবী, সূর্যমুখী, একঝুড়ি, চেরিফুল, রাধাচূড়া, বেলি, সন্ধ্যামালতি, নয়নতারা, জবা, টগর ও বাগানবিলাস।

দৃশ্যটি নগরীর ২৮৩ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের ইউসুফ সর্দার বাড়ির দোতলা ভবনটির ছাদের। দোতলা বাড়ির পুরো ছাদ জুড়েই আছে নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধিসহ বাহারি গাছ। বাড়ির মালিক মোহাম্মদ মঞ্জুর (৪৭)। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘এটি আমার পৈত্রিক বাড়ি। আর এটাই আমার জন্মস্থান। আমাদের বাড়িটি দোতলা। আছে বিশাল ছাদ। আমি ছোটকাল থেকেই আমার মাকে দেখতাম ছাদে বিভিন্ন রকম সবজি ও ফলের গাছ লাগাতে। আবার সেই সবজি মাঝেমধ্যে রান্নাও করতেন। তবে তখন এতো প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ ছিল না। আমাদের ছাদটি প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের। মাঝেমধ্যে মায়ের সাথে বাগানে হাত লাগাতাম। এভাবেই বাগান করার প্রতি ভালোবাসা জন্মে যায়। ছাদের বাগানটি আমার আর মায়ের খুব সখের। আমি ব্যবসার কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকি। তাই মা ছবিলা খাতুন (৫৯) বাগান দেখাশুনা করেন। তবে অবসর সময়ে আমিও বাগানের পরিচর্যা করি।’

ছবিলা খাতুন দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মা। তার সখের বাগানটি ঘুরে দেখা যায় নানা প্রজাতির ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের সমাহার। বর্তমানে প্রায় ৭০ প্রজাতির গাছ রয়েছে তার ছাদে। ছাদের একাংশ জুড়ে আছে কিছু ঔষধি গাছ। আবার ফুলের মধ্যে রয়েছে টুইংকেল ফুলের চারা, ক্যাকটাস, অর্কিড, নাইটকুইন, শিউলি, কৃষ্ণচুড়া, কাঠগোলাপ, জবা, সূর্যমুখী, করবী, গাঁদা, পিটুনিয়া, ডায়েনটাস, দোলনচাপা, কামিনী, জিনিয়া, চেরি, একঝুড়ি, রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, কসমস, নয়নতারা, চন্দ্রমল্লি­কা, স্টার, সন্ধ্যামালতি, লিলি, পাতাবাহারসহ আরো অনেক ফুলের গাছ। এক একটি ফুলের কয়েকটি জাত আছে- ৫ প্রজাতির কলাবতী, ৪ প্রজাতির একঝুড়ি।

ছবিলা খাতুন বলেন, ‘বয়স হয়েছে। আমার স্বামী মারা গেছেন দুই বছর হয়েছে। ছেলেমেয়েদেরও বিয়ে দিয়েছি। বাগান করতে খুব ভালো লাগে। আসলে তিনি (স্বামী) চলে যাওয়ার পর থেকেই অনেকটা একা হয়ে পড়েছি আমি। এখনতো আল্লাহকে ডাকা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। তাই নামাজশেষে এই বাগান নিয়েই থাকি। খুব ভালো লাগে অবসর সময়টা গাছের পরিচর্যা করতে। সবুজ গাছপালা ও ফুল বাগানে এসে বসতে ইচ্ছে করে এতে মনটাও ভালো হয়ে যায়। তাই নিজেদের বাগানকেই সবুজ গাছপালায় সাজানোর চেষ্টা করেছি।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 180 People

সম্পর্কিত পোস্ট