চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১:২৪ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রুপ থিয়েটার ফোরামের ‘নবান্ন ফিরে আস’

দর্শকসারিতে বিরাজ করেছে নিস্তব্ধতা। অপেক্ষা অল্প-কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে নাটক। দেখতে দেখতে আলো আঁধারীর মিলনে শুরু হয়ে যায় নাটক ‘নবান্ন ফিরে আস’। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় অ্যাভাঁগার্ড

প্রযোজিত নাটক ‘নবান্ন ফিরে আস’। রচনা করেন সুমন টিংকু ও নির্দেশনায় মোসলেম উদ্দীন সিকদার। নাটকের এ কাহিনীতে মূলত ফুটে উঠেছে ‘মৃত্তিকার সন্তানগণ মৃত্তিকামগ্ন হয়েই আনন্দিত হয়’। সনাতন মৃত্তিকাই গর্ভধারিণী তাদের। পারস্পরিক সহজাত ভালোবাসার সম্পর্ক অনাদিকালের। এই সম্পর্কের বন্ধন যেন মাতৃদুগ্ধের সাথে গর্ভজাতের। কিন্তু ‘কাল’ ও তার চরিত্র বদলে ‘আকাল’ হয়ে উঠে। লোভে পড়ে আপন সন্তানও হয়ে উঠে পাশবিক। মাতৃদুগ্ধকে কলুষিত করতে সেও গরলের পেয়ালা হাতে দাঁড়ায় অশুভের আহ্বানে। ইতিহাস অবাক নয়নে তাকিয়ে দেখে, জননী হত্যাযজ্ঞে মত্ত তারই আপন সন্তান। নাটকটিতে ফুটে উঠে বর্তমান সমাজের নানা দিক। যে ভূমিতে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি সেই ভূমির সন্তান হয়েও মানুষ তার সাথে বেইমানি করে। যে ভূমিতে একদিন সোনার ফসল ফলত সেই ভূমিতেই চাষ হয় তামাকের। কুলষিত হয় ভূমি। একদিন সেই সন্তানদের সামনে ভূমিকে লুট করে খায় ভিনদেশি হায়েনারা। সভ্যতা যার নাম, সেই দুর্বৃত্ত হরণ করে ভূমির যা কিছু সুন্দর। সব হারিয়ে ভূমি হয় নিথর, উপায়হীন। এ সবকিছুর জন্য দায়ী সা¤্রাজ্যবাদ। যার কাছে আমরা অসহায় তাই আজ নিজেদের ধ্বংসের ক্ষণ গুনি। তখনও কালপুরুষের তেজদীপ্ত আলো নিয়ে সীতা দেবীরা দাঁড়ায় প্রতিরোধের আগুন হাতে নিয়ে। নাটকে অভিনয় করেন, শামসুল কবীর লিটন, রহিমা খাতুন লুনা, রেহেনা কবীর, হেমা বড়–য়া, রেজাউল করিম আলমগীর, মো. পারভেজ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আজ সন্ধ্যা ৭টায় সজনীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনায়, সনজীব বড়–য়ার সম্পাদনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হবে অঙ্গন থিয়েটার ইউনিট প্রযোজনায় নাটক ‘শেষ বিকেলের গল্প’।

The Post Viewed By: 44 People

সম্পর্কিত পোস্ট