চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ জুন, ২০২৩

৩০ মার্চ, ২০২৩ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রায়হান আজাদ

রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ইমানের দাবি

রমজান মাসে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিবস্থা নেই। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় দেশের বাজার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমশ উর্ধ্বগতি নিম্ন আয়ের মানুষদের মারাত্মক অস্থির করে তুলছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর দৈনন্দিন খাদ্য সামগ্রীর দাম অনেক বেশি। গ্রাম-গঞ্জ-শহরে জিনিসপত্রের আকাশ ছোঁয়া দামে রোজাদারের সিয়াম সাধনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এদিকে, ক্ষুদ্র পুঁজির সাধারণ ব্যবসায়ীরাও বেকায়দায় রয়েছেন। পাইকারের গুদামজাতকরণ-দুর্নীতি-চাঁদাবাজি এর জন্য বড় দায়ী। এমতাবস্থায় মাহে রমজানে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে যেখানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল কিংবা ক্রম হ্রাসমান রাখার কথা ছিল সেক্ষেত্রে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম।

 

আরবদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ভাইয়ের রোজা পালনের সুবিধার্থে পণ্য মূল্য স্বাভাবিক রাখা এবং সহজ উপায়ে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা সকল মুসলমানের ইমানী দায়িত্ব ছিল।

 

সেক্ষেত্রে দেখা গেছে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম উপায়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। যা কোন মতেই ইসলাম সমর্থন করে না। রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মজুদদারি, দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, ধোঁকা, প্রতারণা, ভেজাল দেয়া ও অন্যায়ভাবে মূল্য নির্ধারণ কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।

 

দেখা যায়, কিছু কিছু ব্যবসায়ী ওজনে কম দেয়। বিভিন্নভাবে ক্রেতাকে ঠকানোর কসরত করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, “দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষদের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পুরোপুরি আদায় করে। আবার নিজেরা যখন অন্যের জন্য ওজন কিংবা পরিমাপ করে তখন কম দেয়। ” (সূরা আল মোতাফ্ফেফীন: ০১-০৩)। সুতরাং লোকের প্রাপ্য তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রদান করা অপরিহার্য।

 

ইসলামী শরীয়তে পণ্যে সব ধরনের ভেজাল দেয়া নিষিদ্ধ। এটি চরম গর্হিত কাজ। হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাসি ও পচা খাবার পরিবেশন দ-নীয় অপরাধ। ইসলামের স্বর্ণযুগ খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির প্রচলন ছিল। আশা করছি, রোজার মৌলিক শিক্ষা, সংযম ও খোদাভীতি অর্জন করত আমাদের ব্যবসায়ী সমাজ গ্রাহকদের কোনভাবেই ঠকাবেন না, তারা নৈতিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত হবেন।  দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রেখে গরিব রোজাদারদের প্রতি সহানুভূতিশীলতা দেখাবেন, ইনশাল্লাহ।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট