চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৫ আগস্ট, ২০১৯ | ২:৩৬ এএম

নিজস্ব সংবাদদাতা

গালি না দিলে আমি পার্লামেন্টে হয়তো ব্রিজের কথা বলতাম না

শোকসভায় সাংসদ বাদল

চট্টগ্রাম ৮ সংসদীয় আসনের সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিলে বাংলাদেশ নেই। বঙ্গবন্ধুর অস্থিত্বকে অস্বীকার করলে বাংলাদেশের মানুষের বাঙ্গালি ভাবার অবকাশ নেই। জাতির পিতাকে অস্বীকার করলে আমাদের কোনো পিতৃপরিচয় থাকবে না।

তিনি গতকাল (শনিবার) বিকেলে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ (বিদ্রোহী) অংশ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী ও মেজবানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের নাম থাকলেও তিনি সভায় উপস্থিত হননি।

এতে সাংসদ বাদল দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি আমার পরম বন্ধু আ. লীগের নেতৃবৃন্দকে বলব, চিন্তা করবেন সারাজীবন থাকতে পারতেছেন কিনা ? সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করতে না পারলে, আমাদের প্রত্যেকের কপালে খারাবি আছে। আমি আ. লীগ নেতবৃন্দকে বলব দলের ভিতর অবিশ্বাস, পরস্পরের মধ্যে বিভাজন, পার্থক্যে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা কেউ থাকব না। আমরা সবাই নৌকার যাত্রী, নৌকা ফুটো হলে, আপনারা যদি মনে করেন আমি ডুবব, আমি বলব আপনারাসহ ডুববেন। পকেট কমিটি করে লাভ কী ? বঙ্গবন্ধু সকলের নেতা, নেতার রাস্তা ধরতে হবে, অন্য কারও রাস্তা নয়। পরস্পরের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে লাভ কী ? মৃত্যু সবার কাছাকাছি চলে এসেছে। আপনার, আমার জানাজা পড়বেন এ বোয়ালখালীবাসী, সিলেট থেকে তো কেউ আসবে না। খাটিয়া বহনের জন্য বাইরে থেকে কেউ আসবেন না, সুতরাং নিজেদের মধ্যে বিরোধ আর করবেন না, কোনো লাভ নেই।
তিনি বলেন, গত পরশু আমার ভাই মোছলেম উদ্দিন সাহেব একটি সমাবেশে বলেছেন, ‘এমপি সাহেবের পদত্যাগের দরকার নেই, চলুন একসাথে কাজ করি। কালুরঘাটের ব্রিজের জন্য দরকার হলে শেখ হাসিনার পা ধরব’। আমি এবিষয়টিকে অন্তর থেকে স্বাগত জানাই। আমি বলব, ব্রিজ আমার সম্পত্তি নয়, এটা জনগণের, মোছলেম ভাইয়েরও, বোয়ালখালীসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের। এটার জন্য সকলের অবদান থাকবে। যিনি আমাকে গালি দিচ্ছেন তারও অবদান আছে। তিনি গালি না দিলে আমি পার্লামেন্টে গিয়ে হয়তো ব্রিজের কথা বলতাম না।

সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান এম এ ঈছা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আ.লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইউনুস, জাসদ নেতা এডভোকেট আবু মোহাম্মদ হাশেম, সৈয়দুল আলম, মনির উদ্দিন আহমদ খান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম, মো. হারুন মিয়া, আবদুল ওয়াদুদ, কুতুব উদ্দিন আল আজাদ, মাস্টার মফিজুর রহমান, এম এস আলম, জসিম উদ্দিন, ইউছুপ মাস্টার, মামুনুর রশিদ মামুন, সেলিম উদ্দিন, মো. রিয়াদ হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, মোরশেদ আলম, রোকন উদ্দিন প্রমুখ।

The Post Viewed By: 298 People

সম্পর্কিত পোস্ট