চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৪ আগস্ট, ২০১৯ | ৩:২৪ এএম

নিজস্ব সংবাদদাতা

অবরোধ-ভাংচুর, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর বাড়িতে আগুন

টেকনাফে যুবলীগ নেতা হত্যা

‘রোহিঙ্গা অস্ত্রধারীরাই খুন
করেছে আমার ছেলেকে’
হ টেকনাফ

টেকনাফের জাদীমুরায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে গত (বৃহস্পতিবার) হত্যা করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল (শুক্রবার) সকালে টেকনাফ-কক্সবাজার প্রধান সড়ক অবরোধ, ভাংচুর, বিক্ষোভ ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ মাঝির বাড়িতে আগুন দিয়েছে স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২২ আগস্ট রাত ১১ টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি ও জাদিমুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক (২৪) বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুল সংলগ্ন জাদিমুরা বাজারে একটি দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় অতর্কিত অবস্থায় অস্ত্রধারীরা সেখানে গিয়ে তাকে টেনে হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। রাতেই ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ.বি.এম.এস দোহা জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত ওমর ফারুক জাদীমুরা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মোনাফ সওদাগরের পুত্র।

এদিকে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে গতকাল (শুক্রবার) সড়কে নেমে এসেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে হত্যায় জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ মাঝির বাড়িতে আগুন দেয়। এরপর রোহিঙ্গাদের দোকান-পাট ভাংচুর করে সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষোভ চালাকালিন বিভিন্ন এনজিও সংস্থার গাড়ি ও অফিস ভাংচুর করা হয়। সড়কে আগুন জ্বালিয়ে গাছ ফেলে অবরোধ করায় সড়কের উভয়পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর, আওয়ামী যুবলীগ কক্সবাজার জেলা সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, হ্নীলা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী, বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে ৩ ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

গতকাল ময়না তদন্ত শেষে বিকালে নামাজে জানাজা শেষে ওমর ফারুককে সমাহিত করা হয়। জানাজার নামাজের পূর্বে সাবেক এমপি ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, সাবেক এমপি আলহাজ আবদুর রহমান বদি সিআইপিসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

নিহতের পিতা আবদুল মোনাফ সওদাগর বলেন, ‘আমার ছেলে ওমর ফারুক ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকালে যুবলীগের একজন কর্মী হিসাবে রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই ডাকাত নুর মোহাম্মদ ও সেলিমের নেতৃত্বে একদল রোহিঙ্গারা অস্ত্রধারীই আমার ছেলেকে খুন করেছে। আমি এই হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই’।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সন্ধ্যায় বলেন, ‘হত্যাকা-ের ঘটনায় এখনও কেউ মামলা দায়ের করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।

The Post Viewed By: 1263 People

সম্পর্কিত পোস্ট