চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৪ আগস্ট, ২০১৯ | ৩:২০ এএম

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম শুরু

আমন চাষ

হ বিপর্যয় কাটিয়ে নতুন
স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

সাতকানিয়ার কৃষক আবদুল নবী ও রহিম মিয়া। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে নষ্ট হয়ে যায় আমনের বীজতলা। বীজতলা হারিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার নেমে আসে তাদের। চন্দনাইশের খলিলুর রহমানেরও একই দশা। অতি বৃষ্টি ও বন্যায় আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে আমন রোপণ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে যায়। সব হারানোর পরও নতুন করে বীজতলা তৈরি করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৬ হাজার ৫৩১ জন কৃষক। ল-ভ- হয়ে গেছে আউশ, বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর বীজতলার মধ্যে এক হাজার ১০৯ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

এরমধ্যে ৭৮ দশমিক ৪ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এক হাজার ৭৭ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও নতুন করে বীজতলা তৈরি করে শুরু করেছেন আমন রোপণ। বিশেষ করে পটিয়া, রাঙ্গুনীয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া উপজেলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলার খলিলুর রহমান বলেন, তিন একর জমির বীজতলা বন্যায় ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করে আমনের চাষাবাদ শুরু করেছি। ১০ কানির বেশি জমিতে চাষাবাদ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে বীজতলা তৈরি না করলে ১০ কানি জমি অনাবাদি থেকে যাবে। তখন তো আরও বেশি ক্ষতি হবে।
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, বন্যায় চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চাষাবাদ করতে হয়েছে। আদর্শ বীজতলা তৈরি, জৈব ও সুষম সার ব্যবহারের ফলে এক মাসের মধ্যে চারা রোপণের উপযোগী হয়। এতে বন্যার পর কৃষক ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

কোরবানির ঈদের পর থেকে কৃষক আমন রোপণে মাঠে নেমে পড়েছেন। কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত ও রোদ থাকায় ব্যাপকভাবে আমন রোপণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৬১ শতাংশ জমিতে রোপণ করা হয়েছে। আগস্টের মধ্যে আমন রোপণ শেষ হতে পারে।

গত জুলাই মাসে অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দেয়। এতে রোপা আউশ ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বন্যা-পরবর্তীতেও আরও বেশি বীজতলা নষ্ট হয়। সরকারি কোন সহায়তা ছাড়াই নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

কৃষক ও কৃষি বিভাগ জানায়, আমন রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ (শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ)। কিন্তু জুলাই মাসে বন্যার কারণে চলতি বছর আগস্ট মাসে শুরু হয়েছে এই চাষ। কোরবানি ঈদের পর থেকে পুরোদমে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
আমন হচ্ছে এই অঞ্চলের বড় চাষাবাদ। বোরো ও আউশের তুলনামূলক খরচ কম বিধায় আমনের চাষাবাদ বেশি হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমি। ইতিমধ্যেই এক লাখ ১১ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছে।

বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদ-ী চরখিজিরপুর এলাকার চাষী মো. বাবুল বলেন, নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চাষাবাদ শুরু করতে আমন রোপণের উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেছে। বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, চলতি বছর আমনের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৩২ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৬২ হেক্টর। তাই আমনের বীজ সংকট হচ্ছে না। শুধু সাতকানিয়া, চন্দনাইশসহ কয়েক উপজেলার বীজতলার বেশি ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজারের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫-৬ বছর থেকে আমনে খরা, বন্যার বড় প্রভাব, পোকা-মাড়কের আক্রমণ না থাকা এবং বিদ্যুৎতের বড় ধরনের বিপর্যয়ে সেচে বিঘœ না ঘটায় আমনের চাষাবাদ বেড়েই চলেছে। আমন চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকেরা।

The Post Viewed By: 165 People

সম্পর্কিত পোস্ট