চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৩ আগস্ট, ২০১৯ | ১:০৭ এএম

মো. জহুরুল আলম, খাগড়াছড়ি

ড্রাগন চাষে সাফল্য হ্লাশিং মং মারমার

খাগড়াছড়ি শুক্রবারের প্রতিবেদন

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক হ্লাশিং মং মারমা। শুনতে বিস্ময়কর হলেও বাস্তবে সত্যি, পাহাড়ের চূড়ায় ড্রাগন চাষে বিস্ময় জাগিয়েছে কৃষক হ্লাশিং মং মারমা। অনেকটা পানিবিহীন পাহাড়চূড়ায় ড্রাগনের এমন চাষ নজিরবিহীন। মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় প্রায় ৪০ একরের ভূমিতে রয়েছে বিশাল ড্রাগন ফ্রুটসের বাগান। বর্তমানে প্রায় ২২শ ড্রাগন গাছে ফল ঝুলছে। উঁচু পাহাড়ে সিমেন্টের খুঁটিতে লাগানো ড্রাগন গাছে ঝুলছে ফল। প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ১০ থেকে ২০টি পাকা ড্রাগন ফল রয়েছে। অত্যন্ত যতœ ও পরিচর্যা, নিয়মিত সূর্যের আলোকরশ্মি পাওয়ায় পাহাড়ের ওপরেও ড্রাগনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। খাগড়াছড়িতে উন্নত জাতের ফলদ বাগান সৃজন এবং অপ্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় ফল চাষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হন। চলতি বছরের ১৮ জুন ঢাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। সফল কৃষক হ্লাশিং মং মারমা জানান, সাধারণত সমতল বা কম উঁচু ভূমিতে ড্রাগন চাষাবাদ হয়। তবে এখানে ড্রাগনের চাষ হয়েছে প্রায় ১২শ থেকে ১৫শ ফুট ওপরে। তবে উঁচু জায়গা হওয়ায় বড় বিপত্তি সেচ দেয়া। বর্ষা মৌসুমে সেচের দুশ্চিন্তা না থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে সেচ দিতে বিপাকে পড়তে হয়। প্রায় ১৫শ ফুট নিচের ঝিরি থেকে গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি তুলতে হয়। তবে পানির চাপ কম থাকায় বাধ্য হয়ে ‘প্রেসার মেশিন’ বসাতে হয়। পানির অভাবে উৎপাদন মাঝেমধ্যে কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান কৃষক হ্লাশিং মং মারমা।
২০১৬ সালের শুরুতেই সনাতনী পদ্ধতিতে প্রথমে ঝিরি থেকে কাঁধে করে পানি বহন করে সেচ দেয়া হতো। জানা গেছে, খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ড্রাগন চাষ শুরু করেন হ্লাশিং মং মারমা। কয়েকটি ব্লকে ড্রাগনের আবাদ করা হয়। মাত্র ৫শ ড্রাগন গাছ নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে গাছের সংখ্যা প্রায় ২২শ। আরো ৯শ ড্রাগন চারা রোপণের প্রস্তুতি চলছে। ২০১৬ সালে মূলত শখের বসে বাগান শুরু করেন হ্লাশিং মারমা। বর্তমানে ৮-১০টি পাহাড়ে বিস্তৃত হয়েছে সেই স্বপ্ন। নানা জাতের প্রায় ২০ হাজার ফলদ বৃক্ষ রয়েছে তার বাগানে। নিয়মিত শ্রমিকের পাশাপাশি বাগানে তিনি নিজে কাজ করেন। খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহ্মদ জানান, এত উঁচু পাহাড়ে ড্রাগন চাষের নজির এটাই প্রথম। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে কৃষক হ্লাশিং মারমা ড্রাগন চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। কেবলই ড্রাগনই নয় তার বাগানে প্রায় ২০ হাজার ফলদ বৃক্ষ রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং পানির সংকটের কারণে ড্রাগন আবাদ কঠিন হচ্ছে। যোগযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হলে ড্রাগন চাষে আরো লাভবান হবে এখানকার কৃষকরা।
হ্লাশিং মং মারমার তরুবীথি বাগান সৃজনে অন্যতম প্রণোদনাকারী প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বছর তিনেক আগে মহালছড়ির ধুমনিঘাট এলাকায় হ্লাশিং’র বাগান পরিদর্শন করি। উঁচু ভূমি হওয়ার কারণে এখানে ড্রাগনের চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা ছিল। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় শুরুতেই হর্টিকালচার থেকে প্রায় ৫শ চারা দেয়া হয়। সঠিক পরিচর্যার কারণে প্রথম বছরই ফলন আসে। এ কৃষকের সফলতা দেখে স্থানীয় কৃষকরাও ড্রাগন চাষে নেমে পড়েছে এখন।

The Post Viewed By: 63 People

সম্পর্কিত পোস্ট