চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চসিকের দল বাজার এলাকায় এলে উত্তেজনা

হালিশহর ফইল্যাতলি কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন

বর্তমান অস্থায়ী বাজার থেকে চুক্তিভূক্ত দোকানদারদের উচ্ছেদের চক্রান্ত এবং প্রকৃত মালিকদের বাদ দিয়ে বহিরাগতদের নতুন মার্কেটে দোকান বরাদ্দের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে দক্ষিণ কাট্টলী ফইল্যাতলি বাজারের ব্যবসায়ীরা। গতকাল (রবিবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অস্থায়ী বাজারে এ বিক্ষোভ চলে।

 

জানা যায়, চসিক ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অস্থায়ী বাজারের দোকান ভেঙে ফেলা হবে এমন সংবাদ পেয়ে গতকাল সকাল থেকে ব্যবসায়ীরা জড়ো হতে থাকে। সকাল ১১ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশসহ চসিকের একটি দল বাজার এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজনা শুরু হয়। এসময় বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেয়।

 

পরে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ীরা চসিকের সাথে তাদের দোকানের চুক্তির কাগজ দেখালে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা জানান, মেয়রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

ব্যবসায়ী নেতা মো. মাসুম বলেন, ‘কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ করেই অভিযানে আসে ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্ছেদের জন্য পূর্বে কোন নোটিশও দেয়া হয়নি। চসিকের সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে। নতুন দোকান বরাদ্দ না দেয়া পর্যন্ত আমরা এই স্থান ছেড়ে যাব না।’

 

ফইল্যাতলি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আসলাম হোসেন বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে পরিশ্রম করে আমরা এ বাজার প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৯ সালে নতুন মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরুর আগে ২০১৭ সালে বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে পুরোনো ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। নতুন মার্কেটে আমরা এখনও কোন দোকান বরাদ্দ পাইনি। অথচ চসিকের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে ফইল্যাতলি বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ীদের সাথে কোন আলাপ না করে তাদের জন্য নির্মিত কিচেন মার্কেটের বেশ কিছু দোকান অব্যবসায়ী ও বহিরাগতদের নিকট বরাদ্দ দিয়ে দেয়।

 

এ ব্যাপারে যখন আমাদের আন্দোলন চলমান, তখন দুইজন জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে আমাদের রুটি রুজির একমাত্র উৎস বাজার থেকে আমাদের উচ্ছেদের নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা যে কোন মূল্যে এটা প্রতিহত করব।’

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, ‘চসিক’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি দল বাজারে আসলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সাথে আলাপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।’

 

তবে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমরা ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ীরা ভুল বুঝে ওখানে জড়ো হয়েছিলেন।’

 

এদিকে, এ ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা দুপুরে বাজারের সামনে এক মানববন্ধন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি আসলাম হোসেন সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুম, অর্থ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মো. ইমরান, সহ প্রচার সম্পাদক মো. হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াছ, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবীসহ ভুক্তভোগী দোকান মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

 

পূর্বকোণ/ জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট