চট্টগ্রাম রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩

সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

আড়াই কোটি টাকার এসব মেশিনের তিনটি পেল সার্জারি ও একটি গাইনি বিভাগে

আধুনিক ৪ রোগ নির্ণয়যন্ত্র এলো চমেক হাসপাতালে

আড়াই কোটি টাকা মূল্যের রোগ নির্ণয়ের আধুনিক চারটি মেশিন পেয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। এসব মেশিনের মধ্যে তিনটি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ এবং অপরটি গাইনি বিভাগের জন্য আনা হয়।

 

ইতোমধ্যে মেশিনগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গেল সপ্তাহে এসব মেশিন চমেক হাসপাতালে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি বলেন, ‘সার্জারি বিভাগ ও গাইনি বিভাগের জন্য চারটি আধুনিক যন্ত্র পেয়েছি। ইতোমধ্যে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নতুন এসব মেশিন পাওয়ার ফলে সেবাদানের সুযোগ আরও বেড়ে গেল।’ জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) থেকে সর্বমোট ২ কোটি ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ টাকার যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়।

এরমধ্যে ৬২ লাখ ১৭৮ টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতিসহ ভিডিও কোলোনস্কপি, ৬৪ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ টাকা মূল্যের জিআই ভিডিও এন্ডোস্কোপি, ৬৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৭ টাকার ইআরসিপি-এইচএসএম মেশিন। এছাড়াও গাইনি ওয়ার্ডের জন্য ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ল্যাপারোস্কোপি মেশিন রয়েছে।

 

সার্জারি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের দুটি কোলোনস্কপি মেশিন ছিল। কিন্তু তা দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যার কারণে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম অবস্থায় পড়তে হয় চিকিৎসকদের। তাছাড়া এন্ডোস্কোপি মেশিন থাকলেও মাঝে মাঝে মেশিনটি ত্রুটি দেখা দেয়ায় কাজ করতে হিমশিম অবস্থায় পড়তে হয় চিকিৎসকদের। সম্প্রতি সার্জারি বিভাগের রোগ নির্ণয়ের এসব যন্ত্র নিয়ে চিকিৎসকদের চাহিদার প্রেক্ষিত্রে কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে চিঠি দেন হাসপাতালের পরিচালক। চিঠির প্রেক্ষিতে সিএমএসডি বা কেন্দ্রীয় ওষুধাগার কর্তৃপক্ষ জাপানের তৈরি আধুনিক এ মেশিনটি পাঠায় সিএমএসডি। শুধু তাই নয়, বিভাগকে সম্প্রসারণ করতে ইআরসিপি ও ভিডিও এন্ডোস্কোপির মতো ভারি যন্ত্রও স্থাপনে দুটি মেশিন পায় চমেক হাসপাতাল।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘দুটি কোলোস্কপি মেশিন ছিল, কিন্তু তা দীর্ঘদিন অকেজো ছিল। তবে নতুন মেশিন পাওয়ায় সে ঘাটতি আর থাকবে না। তাছাড়া নতুন মেশিনগুলোও উন্নতমানের। এসব মেশিন ছাড়াও প্রতিটি বিভাগকে সম্প্রসারণ করতে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সবার চেষ্টায় আধুনিক চিকিৎসা সেব কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই হাসপাতালটি। আশা করছি সবার সহযোগিতায় অন্যান্য বিভাগগুলোতেও আধুনিক মেশিনারিজ স্থাপন করা যাবে। ইতোমধ্যে সিএমএসডিতেও আরও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি চাওয়া হয়েছে।’

 

সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘অনেক দিন পর হলেও কিছু উন্নতমানে রোগ নির্ণয়যন্ত্র পাওয়া গেছে। ফলে সার্জারি বিভাগও অনেকটা সমৃদ্ধ হলো। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব মেশিন স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের খবর দেয়া হয়েছে। জায়গা নির্বাচন হওয়ার পর পরই তা দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা হবে।’

 

পূর্বকোণ/ জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট