চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে ‘নিরাপদ প্রসব সেন্টার’!

অনুমোদনতো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কখনো আবেদনও করা হয়নি। অথচ শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই গড়ে তোলা হয় ‘নিরাপদ প্রসব সেন্টার’ নামে প্রসূতি ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান। তাও আবার অলিগলির ভেতরের একটি ফ্ল্যাট বাসায়। বিস্ময়কর হচ্ছে, সেন্টারটিতে ডেলিভারির মতো জটিল কাজ করে থাকেন একজন মাত্র ধাত্রী।

 

প্রতারণা আর অনুমোদহীনভাবে গড়ে তোলা নগরীর বাকলিয়া থানাধীন বউবাজার এলাকার ‘নিরাপদ প্রসব সেন্টার’ নামে অবৈধ আলোচ্য প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাহাদাত হোসেনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদ- ও অর্থ দ- দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ডেলিভারি করানোর দায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহধর্মিণী ফাহিমা শাহাদাতের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।  গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন বউ বাজার এলাকায় অবস্থিত নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে প্রতিষ্ঠানটিতে যৌথভাবে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এসময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স না থাকায় সেন্টারটির পরিচালক শাহাদাত হোসনেকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) আইনানুযায়ী ৫ হাজার টাকা এবং ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও ধাত্রী ফাহিমা শাহাদতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন, ‘সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। যার কোন অনুমোদনই নেই। শিশু জন্মগ্রহণের পরবর্তী সেবার ক্ষেত্রে যে সকল সরঞ্জাম থাকা দরকার, ভুঁইফোঁড় এই ক্লিনিকে তা ছিল না।’

 

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাহাদাত হোসেন যিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এরমধ্যে গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে শাহাদাত হোসেন নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে বাকলিয়ার বউ বাজারের সুবর্ণ আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির নিচ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নরমাল ডেলিভারি সেন্টার খুলে বসেন। সেন্টারটিতে শাহাদাতের স্ত্রী ফাহিমা শাহাদাত নিজেই চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ডেলিভারির কাজ করে থাকেন।

 

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি পূর্বকোণকে বলেন, ‘ফাহিমা শাহাদাত কোন চিকিৎসকই নন। তার ডেলিভারি করার মতো কোন অভিজ্ঞতাও নেই। কিছুদিন ব্র্যাক এনজিওতে চাকরি করেন। পরে কয়েকটি সেন্টারে কাজ করেন। চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেই নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে এ প্রতিষ্ঠানটি খুলে বসেন। যার কোন অনুমোদনই নেই।’

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৩ জানুয়ারি নিরাপদ প্রসব সেন্টার নামে এ প্রতিষ্ঠানে জান্নাতুল ফেরদৌস নিহা নামে (২২) এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরে আসে। এরপরই যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, ‘সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসায় জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে শুধু এ প্রতিষ্ঠান নয়, অনুমোদন ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে, সেগুলোও বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবুও চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোন ধরনের অবহেলা, অনিয়ম মানা হবে না।’

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট