চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ

মিজানুর রহমান 

বিলের বাড়তি টাকা গোনার পর রিচার্জেও ভোগান্তি

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই চলতি মাসে বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম। তবে এই বাড়তি দাম পরিশোধ করতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদ্যুতের প্রি-পেইড সংযোগধারী গ্রাহককে। এতোদিন আবাসিক পর্যায়ের গ্রাহকরা ২০ ডিজিট দিয়ে মিটারে টোকেন ইনপুট দিলেও এখন দিতে হচ্ছে ১৮০-২২০টি। এত বেশি ডিজিট মিটারের নিউমেরিক কি-বোর্ডে টিপতে গ্রাহকের যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনি সঠিক নিয়ম না জানায় রিচার্জও করতে পারছেন না কেউ কেউ।

 

গ্রাহকের এই ভোগান্তি নিয়ে পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন- বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তন হলে প্রথমবার রিচার্জে টোকেনের ডিজিট বেশি আসে। দেশে প্রি-পেইড মিটার চালুর পর যতবার বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তন হয়েছে, ততবারই প্রথমবার রিচার্জে এই ঘটনা ঘটেছে। এটা সফটওয়্যারগত ইস্যু। এ নিয়ে কোনো গ্রাহক রিচার্জের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মিটার রিডার দিয়ে গ্রাহককে রিচার্জের নিয়মও দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে ভোগান্তির শিকার গ্রাহকদের অভিযোগ- গত ১২ জানুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জের ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পিডিবি     কর্তৃপক্ষ। বাড়তি ডিজিটের বিষয়ে পিডিবির পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা বা প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেক গ্রাহক বিষয়টি জানেনও না। মিটার রিচার্জের সমস্যা নিয়ে অভিযোগকেন্দ্রগুলোতে জানানো হলেও সামাধান মিলছে কিছুটা ‘দেরিতে’। যে কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিন চার বার চেষ্টা করেও ১৮০ ডিজিট দিয়ে মিটারের রিচার্জ করতে পারেননি। পরের দিন এক বন্ধুর সাহায্যে রিচার্জ করতে সক্ষম হন তিনি। ক্ষুব্দ ফয়েজ পূর্বকোণকে বলেন, ‘দেশকে ডিজিটাল করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এখন স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু একটি জাতীয় সিস্টেমকে আমরা আপগ্রেড করতে পারিনি। ফলে সবাইকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।’ শুধু ফয়েজ নন, ফেসবুকেও এ নিয়ে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

 

পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের অধীন প্রায় ৬ লাখ প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহক রয়েছেন। নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম পাঁচ শতাংশ বাড়ানোর পর তাদের প্রত্যেকেরই প্রথমবার রিচার্জে ১৮০-২২০ ডিজিটের টোকেন আসছে। সব ডিজিট ইনপুট দিয়েই রিচার্জ করতে হবে। এক্ষেত্রে ১৮০ ডিজিট একসঙ্গে ইনপুট না দিয়ে প্রতি ২০ ডিজিট ইনপুটের পর একবার করে মিটারে থাকা ‘এন্টার’ বাটনটি টিপতে হবে। তবে দ্বিতীয়বার রিচার্জ করলে এই ঝামেলা থাকবে না। আগের নিয়মেই রিচার্জ করা যাবে।

 

বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস, রিচার্জের দোকান এবং পিডিবির প্রি-পেইড মিটার রিচার্জকেন্দ্র থেকে গ্রাহকরা রিচার্জ করে থাকেন। এরমধ্যে অলি-গলির রিচার্জের দোকানগুলো থেকেই বেশি রিচার্জ করেন গ্রাহকরা। রিচার্জের পর গ্রাহককে ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর সরবরাহ করেন তারা। তবে এখন ডিজিটের সংখ্যা বাড়ায় অনেক গ্রাহক রিচার্জের দোকানির সঙ্গে বাক-বিত-ায় জড়াচ্ছেন। এ জন্য ‘সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে’ রিচার্জ করা বন্ধ করে দিয়েছেন কোনো কোনো দোকানি।

 

তাদের একজন টেক্সটাইল এলাকার দোকানি আব্দুল খালেক। তিনি পূর্বকোণকে জানান, মিটার নম্বর দিয়ে রিচার্জ করার পর কয়েক ঘণ্টা লাগছে টোকেন নম্বর আসতে। ২০ ডিজিটের বদলে ১৮০-২২০ ডিজিট আসায় সেটি গ্রাহকদের বিশ্বাস হচ্ছে না। এতগুলো ডিজিট লিখে দেওয়াও কষ্টের। অনেকে এসএমএস থেকে মিটারের কি-বোর্ডে এত বেশি ডিজিট তুলতে অক্ষম। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রচার প্রচারণাও নেই। তাই কাছের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।

 

পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম পূর্বকোণকে বলেন, ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে প্রি-পেইড মিটারের টোকেনে বেশি ডিজিট আসছে। এসব ডিজিটের মধ্য দিয়ে মিটারে প্রোগ্রাম সেট ও রিচার্জ দুটোই হচ্ছে। এটি শুধু চট্টগ্রাম নয়- সারা বাংলাদেশেই হচ্ছে। দ্বিতীয়বার রিচার্জে এই সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা কাজ করছি। কোনো গ্রাহক রিচার্জের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট