চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২২ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি

সাবেক ব্রিটিশ ফার্স্ট লেডি চেরি ব্লেয়ার বলেছেন, আফগানিস্তান, ইরাক ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে নারীশিক্ষা বেশ কঠিন। তাদের জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে সেখানে ১৫০ আফগান ছাত্রী আটকা পড়েন। আমরা এইউডব্লিউ’র এলামনাইয়ের সহযোগিতায় তাদের সেখান থেকে বের করে আনতে সক্ষম হই। তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন।

 

 

গতকাল শনিবার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’র (এইউডব্লিউ) ১০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলরের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর বায়েজিদ এলাকার আরেফিন নগরে এইউডব্লিউ’র স্থায়ী ক্যাম্পাসে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যারা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে স্নাতক শেষ করেছেন তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখবেন। আমাদের পোশাক শিল্পে যে নারী কর্মীরা আছেন তাদের অনেকেই এখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আজ সফল উদ্যোক্তা। তৈরি পোশাক শিল্পে তারা অবদান রাখছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটি আজ অনেকটাই সফল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীরা সমাজকে বদলে দিতে-নেতৃত্ব দিতে কাজ করছে।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, করোনাকালীন সময়টা সারা বিশ্ববাসীর জন্য কষ্টকর ছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ১৭-১৮টা দেশের শিক্ষার্থীরা আছেন। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের শিক্ষকরাও রয়েছেন। ফলে এখানে সশরীরে ক্লাস করানো সম্ভব হয়নি। তাই আমরা শুরুতেই অনলাইন ক্লাসের দিকে চলে গিয়েছিলাম। সেটি আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি। যেটুকু ক্ষতি হয়েছিল, পরে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেছি। শিক্ষার্থীরা কী পরিমাণ খুশি তা আপনারা তাদের কাছ থেকে শুনেছেন।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রুবানা হক বলেন, বিগত বছরগুলোতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনও চলমান রয়েছে। এইউডব্লিউ’র শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নানান দেশে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। যেসব দেশ নারীশিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে এবং নারীদের শিক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখে তাদেরকে এইউডব্লিউতে স্বাগত জানাচ্ছি। ২০২৪ সালে বায়েজিদে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি।

 

 

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস জন সেক্সটন। আরো বক্তব্য রাখেন ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পল নাইরুপ রাসমুসেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এইউডব্লিও’র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠান, যা পড়ে শোনান শিক্ষার্থী সাদিকা বেগম। সমাবর্তনে আরো বক্তব্য রাখেন এইউডব্লিওর প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ, সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মায়ারা, এইউডব্লিওর আর্টস এন্ড সায়েন্সের ডিন ড. বীনা খোরানা।

 

 

করোনার কারণে বিগত তিন বছর এইউডব্লিওতে সমাবর্তন হয়নি। এবার ২০২০, ২০২১, ২০২২ শিক্ষাবর্ষের ৪৮৬ শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ প্রদান করা হয়। তিন বছর পর সমাবর্তন হওয়ায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯টি দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সমাবর্তনে ৬ জনকে এনডি মাতসুই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

 

 

নানান দেশের সংস্কৃতি জানার সুযোগ পেয়েছি
সায়মা সাদিয়া

প্রথম থেকেই চিন্তা ছিল চট্টগ্রামে স্তনাতক (সম্মান) শেষ করবো। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আজ সমাবর্তনের মাধ্যমে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে চার বছরের একটি টানা জার্নি অবশেষে শেষ হলো। খুব ভালো লাগছে।

 

 

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন বাংলাদেশের এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়- যেখানে পড়ালেখার মাধ্যমে বিশ্বের নানা দেশের সংস্কৃতি নিয়ে জানার সুযোগ পেয়েছি। দেশের অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের তুলনায় আমাদের প্রফেসররা অসাধারণ। প্রতিটি বিষয়ে তারা আমাদের খুব কেয়ার করতেন।

 

 

অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এইউডব্লিওতে
রাইসিনা চৌধুরী

 

 

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিও) মতো সুযোগ-সুবিধা দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে কিনা আমার জানা নেই। এখানে পড়ালেখার সময় চার বছরে ১৮-২০টি দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। ইন্টারেস্টিং অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছি। বিশ্বের এতগুলো দেশের শিক্ষার্থীর সাথে কীভাবে মিলেমিশে থাকা যায়- তা এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ­শিখিয়েছে। সব মিলিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

 

 

এইউডব্লিওতে পড়ালেখার সময় চার বছরে অনেক কিছু অর্জন করেছি। সবকিছু কীভাবে ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে হয়, তা আমার শিক্ষকরা শিখিয়েছেন। সমাজ যেটা যেটা বলে, সেটা যে সব সময় সঠিক না এবং সেটাকে কীভাবে ভেঙে পুনঃনির্মাণ করা যায়, তা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিখেছি। ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে সমাবর্তন পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। সহসায় যাতে এই ক্যাম্পাসের ভবন নির্মাণ শেষে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার সুযোগ পায় সেই প্রত্যাশা করি।

 

 

দারুণ উৎসাহ পেয়েছি শিক্ষকদের কাছ থেকে
মালিহা চৌধুরী

 

 

শুধু অর্থ উপার্জন নয়, পড়ালেখা শেষ করে দেশের জন্যও যাতে কাজ করতে পারি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিওতে) ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বছরে অনেক কিছু শিখেছি। একাডেমিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমিক হওয়ার শিক্ষাও দিয়েছে এইউডব্লিও।

 

 

শিক্ষকরা আমাদের কখনো ক্লাসরুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তারা আমাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করতেন। করোনার মধ্যে যখন সব সুযোগ-সুবিধা কমে আসছিল, তখনও স্যাররা আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমাদের সিনিয়ররা গ্র্যাজুয়েশন শেষে দেশ-বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করছেন। তারাও আমাদের উৎসাহিত করেছেন।

 

 

এইউডব্লিও আমাদের এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে আমরা দেশের বাইরে গিয়েও ইমপেক্ট তৈরি করতে পারি। আমি সম্প্রতি ডেভলপমেন্ট ওয়ার্কার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। ভবিষ্যতেও ডেভলপমেন্ট ওয়ার্কার বা রিসার্চ কাজের সাথে যুক্ত থাকতে চাই।

পূর্বকোণ/আরএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট