চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

ফুরফুরে আ. লীগ, দৌড়ে বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দৌড়ের উপর আছেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা। বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে প্রতিনিয়ত আদালতে যাওয়া, পুলিশের বাড়ি তল্লাশি এর মধ্যে আবার দলীয় কর্মসূচিগুলোও পালন করতে হচ্ছে। কর্মসূচিতে কোন ঝামেলা হলে ফের নতুন মামলায় আসামি হওয়ার আশঙ্কা ইত্যাদি কারণে বিএনপি নেতারা বেশ চাপে আছেন।

 

 

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সংগঠনকে গুছানোর চেষ্টা করছেন। একইসাথে যে যেই আসনে নির্বাচন করার চিন্তা করছেন সেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। যেসব সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলন হয়নি সেখানে সম্মেলনের প্রস্তুতি এবং যেখানে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এমনকি অনেকটা দুইভাগে বিভক্ত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসন করে ওয়ার্ড এবং থানা সম্মেলনশেষে ১১ মার্চ নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার নির্দেশনাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এই লক্ষ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দুই-একদিনের মধ্যে বৈঠকে বসবেন।

 

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম পূর্বকোণকে বলেন, বিএনপি’র আন্দোলন নিয়ে আমরা তেমন ভাবছি না। আমরা মূলত কাজ করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। কারণ দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার বিকল্প কোন পথ নেই। বিএনপি’র আন্দোলন নিয়ে মাথাব্যথা না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সাথে জনগণ নেই। তাই তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হবে।

 

 

তবে বিএনপি’র আন্দোলনকে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন উল্লেখ করে বলেন, তারা যদি কোন সহিংসতা করে তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে। তাছাড়া গত ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যে বৈঠক হয় সেখানে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার। কারণ পবিত্র রমজান শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। এরপর বর্ষাকাল চলে আসবে। একইসাথে ঈদুল আজহাও আসবে। এসব কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় হাতে থাকবে না। তাই আগেভাগে তারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

 

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের মত নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মামলা-হামলা করে নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ তাদের এই স্বপ্ন পূরণ হতে দেবে না। জনগণ এখন রাজপথে নেমে গেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

 

 

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন পূর্বকোণকে বলেন, পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপি করেছিল বিভাগীয় সমাবেশ। আর আওয়ামী লীগের সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলার বাইরে থেকে একজন মানুষও আসেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমাবেশে জনসমাগম অনেক বেশি হয়েছে। তাতেই বুঝা যায় জনগণ বিএনপি’র সাথে নেই। তারা রাজনৈতিক সমাবেশ করলে আওয়ামী লীগের তাতে কোন সমস্যা নেই।

 

 

তবে জনগণের জান-মালের ক্ষতি করলে তখন তা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়ে। সেই প্রস্তুতিও আছে। সর্বশেষ নাসিমন ভবনের সামনে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর বিনা উস্কানিতে হামলা করেছে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব করে তারা জনগণ থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আন্দোলন দিয়ে তারা আওয়ামী লীগের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

 

 

তবে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের দাবি বিএনপি নেতাদের এখন কোন টেনশন নেই। প্রথম একটি-দুটি মামলা যখন হয় তখন নেতাকর্মীরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় ভোগে। কিন্তু মামলার সংখ্যা যখন দশক পেরিয়ে শতকের ঘরে চলে যায় তখন মামলা নিয়ে ভাবার আর সময় থাকে না। বরং আওয়ামী লীগ চরম দুশ্চিন্তায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের হারানোর ভয় আছে। বিএনপি জনগণের জন্য জনগণকে নিয়ে রাজপথে আছে। বিএনপি নেতাদের এখন হারানোর কিছুই নেই।

পূর্বকোণ/আরএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট