চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৬ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়াসা’র টেন্ডার বক্স সিবিএ নেতাকর্মীদের দখলে!

চট্টগ্রাম ওয়াসায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৮০ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের টেন্ডার জমা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই টেন্ডারের দরপত্র জমা দেওয়ার সময় থাকলেও সকাল থেকে সিবিএ’র নেতাকর্মীরা টেন্ডার বক্স নিজেদের দখলে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

 

জানা যায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার বিভিন্ন স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রহরী সেবা (অ-পরামর্শক) ক্রয় কাজ এর টেন্ডারের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল রবিবার। ওই টেন্ডার আহ্বান করা হয় গত ডিসেম্বরের ২২ তারিখ। ওয়াসার সচিব সাহিদা ফাতেমা চৌধুরীর দপ্তর থেকে ওই টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

 

গত ১২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ছিল টেন্ডার ডকুমেন্টস বিক্রির শেষ দিন। এরপর দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছিল সপ্তাহিক বন্ধের দিন। তারপর গতকাল রবিবার ছিল টেন্ডার ডকুমেন্টস জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু সকাল থেকে সেই টেন্ডার বক্স ছিল ওয়াসার সিবিএ’র নেতাকর্মীদের দখলে। এমন অভিযোগ করেছেন টেন্ডার ডকুমেন্টস কিনে জমা দিতে না পারা একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

 

তারা জানায় সকাল থেকে টেন্ডার বক্সের ওপরে বসে ছিল দু’জন নেতাকর্মী। টেন্ডার বক্সের পাশে ছিল আরো ১৫/২০ জন। তারা টেন্ডার ডকুমেন্টস জমা দিতে বাধা দেয়।

 

অভিযোগকারীরা জানান, ৫ লাখ টাকার জামানত জমা দিয়ে এবং ২ হাজার টাকা দিয়ে টেন্ডার ডকুমেন্টস কিনে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে টেন্ডার ডকুমেন্টস জমা দিতে পারেন নি। এ বিষয়ে ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। এমনকি স্বয়ং ওয়াসার কিছু কর্মকর্তারাই এ বিষয়ে সিবিএ নেতাদের সাথে কথা বলতে বলেন।

 

এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফজলুল্লাহ ও সচিব সাহিদা ফাতেমা চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

 

তবে সিবিএ’র সভাপতি মীর লোকমানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমি সকাল থেকে অফিসে ছিলাম। কেউ টেন্ডার ডকুমেন্টস জমা দিতে পারেনি এমনটা শুনিনি। অনেকেই টেন্ডার বক্সের কাছে ছিল। তারা জমাও দিয়েছে। আমার কাছে এসে অন্তত কেউ অভিযোগ জানায়নি। এমনকি এ ব্যাপারে কিছু শুনিও নি।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না’।

 

টেন্ডার ডকুমেন্টস জমা দিতে না পারা অনেকে আজ সোমবার জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন বলে পূর্বকোণকে জানিয়েছেন।

পূর্বকোণ/আরএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট