চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতেও বিরতিহীন ট্রেন চালুর প্রস্তাব ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এক জোড়া বিরতিহীন ট্রেন চালুর প্রস্তাব তৈরি করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে সকাল এবং বিকালের মতো রাতেও এক জোড়া বিরতিহীন ট্রেন চলবে এই রুটে। নতুন ওয়ার্কিং টাইম টেবিল (ডব্লিউটিটি) চালুর সঙ্গে নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন রুটে চালু থাকা ট্রেনগুলোর জন্য তিন বছর পর নতুন ওয়ার্কিং টাইম টেবিল (ডব্লিউটিটি) তৈরি করা হচ্ছে। এতে চালু থাকা ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং নতুন ট্রেন চালুর জন্য বেশকিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রাতে এক জোড়া বিরতিহীন ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ।

 

পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে একটি এবং একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ট্রেন চলাচল করবে। দুটি ট্রেনই যাত্রাপথে কোন স্টেশনে থামবে না। বিরতিহীনভাবে চলবে। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নেবে ৫ ঘণ্টার মতো। প্রতিটি ট্রেনে ১৪-১৮টি রেক থাকবে।

 

সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া সুবর্ণ এক্সপ্রেস এবং বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের রেক দিয়ে নতুন ট্রেনটি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সম্প্রতি বিদেশ থেকে কেনা কোচও সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের এই প্রস্তাব এখন রেলভবনে পাঠানো হবে। রেলভবন থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

 

পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণ সকাল ৭টায় ছাড়ে, পৌঁছায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। ঢাকা থেকে ছাড়ে বিকাল সাড়ে ৪টায়, পৌঁছায় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। সোনার বাংলা চট্টগ্রাম থেকে বিকাল ৫টায় ছাড়ে, পৌঁছায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে ছাড়ে সকাল ৭টায়, পৌঁছায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। রাতে দুই ট্রেনের রেক অলস পড়ে থাকে।

 

তিনি বলেন, এ কারণে সুবর্ণ এবং সোনার বাংলা ট্রেনের রেক দিয়ে রাতে এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালু করা সম্ভব। প্রয়োজনে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা নতুন রেকও এই ট্রেনে ব্যবহার করা যাবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রাতে এক জোড়া নতুন ট্রেন চালু করা গেলে এই পথের যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। বাণিজ্যিকভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও লাভবান হবে।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস এবং সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের আদলে রাতেও এক জোড়া বিরতিহীন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে এখন ৬ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস ১৯৮৫ সালে, মহানগর গোধূলী ১৯৮৬ সালে, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ১৯৯৮ সালে, তূর্ণা এক্সপ্রেস ২০০০ সালে এবং ২০১০ সালে চট্টলা এক্সপ্রেস চলাচল শুরু হয়। সর্বশেষ ৬ বছর আগে ২০১৬ সালে এই রুটে যুক্ত হয় সোনার বাংলা।

 

অন্য ৪ জোড়া ট্রেন যাত্রাপথে বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিলেও সুবর্ণ এবং সোনার বাংলা বিরতিহীনভাবেই চলাচল করে। ফলে এই দুই ট্রেনের টিকিটের চাহিদা যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে বেশি। এখন রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এক জোড়া ট্রেন চলাচল করে। তবে যাত্রাপথে ৭টি স্টেশনে বিরতি দেওয়ায় এতে সময় লাগে বেশি। নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালু হলে এই সমস্যা থাকবে না।

 

পূর্বকোণ/আরএ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট