চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

পুরোদমে চালু হতে সময় লাগবে আরো পাঁচ মাস

বহুল প্রতীক্ষিত বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি (পিসিটি) পুরোদমে চালু হতে পারে আগামী জুলাইয়ে। সেই লক্ষ্যমাত্রায় কাজ করছে পিসিটি পরিচালনার জন্য মনোনীত অপারেটর সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি), বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরএসজিটি ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আইএফসি আগামী মার্চ মাসে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোদমে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চালাচ্ছে সৌদি আরবের আরএসজিটি।

 

তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই গত ১৫ নভেম্বর থেকে পিসিটির জেটিতে শুরু হয়েছে কার্গো পণ্য খালাসের কাজ। গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে এই জেটিতে কার্গো জাহাজ ভিড়েছে ১৬টি। পণ্য খালাস হয়েছে ৩৯ হাজার ৭১৭ টন। টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা এবং বিনিয়োগ মূল্যায়ন করতে আরএসজিটি’র একটি প্রতিনিধি দল গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিসিটি পরিদর্শন করেছে।

 

কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টার্মিনালে বিনিয়োগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, বন্দর চেয়ারম্যান এম শাহজাহান, পিপিপিএর নির্বাহী পরিচালক মো. মুশফিকুর রহমানসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

 

এর আগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-সৌদি আরবের প্রথম বৈঠকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জেদ্দা ইসলামিক বন্দরকে অপারেটর হিসেবে মনোনীত করা হয়। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) অধীনে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি আরএসজিটিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় গত জুলাইয়ে। আরএসজিটিকে ২৮ জুলাই তা জানানো হয়।

 

পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার খবর দিয়েছিল আরএসজিটি। পরবর্তীতে গত ১১ সেপ্টেম্বর জেদ্দায় রেড সি গেটওয়ের টার্মিনাল পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বৈঠক করেন। উভয় দেশ যাতে সমানভাবে লাভবান হয় সে বিষয়ে আইএফসির কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আরএসজিটি। এজন্য একটি ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করছে আইএফসি।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩২ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বছরে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। ১ হাজার ২২৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম বন্দর।

 

পিসিটিতে তিনটি কনটেইনার ও একটি তেল খালাসের (ডলফিন) জেটি থাকছে। একসঙ্গে ভিড়ানো যাবে চারটি জাহাজ। সমুদ্রপথে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামে তিনটি টার্মিনালে ১৯টি জেটি রয়েছে। পতেঙ্গা টার্মিনাল চালু হলে জেটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৩টিতে।

 

বর্তমানে বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভিড়তে পারে। পিসিটিতে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজও ভিড়তে পারবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর নতুন টার্মিনাল পাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।

 

পূর্বকোণ/আরএ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট