চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১০ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতালে আসা ৫০% শিশু ভুগছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে

৩ বছর বয়সী নাফিসা। গেল তিনদিন ধরে সর্দি কাশির সঙ্গে শরীরে হালকা জ্বরে ভুগছে এ শিশু। তিনদিন পার হলেও শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় নাফিসাকে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বহির্বিভাগে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসক নাফিসাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

 

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নাফিসার বাবা দেলোয়ার আহমেদ বলেন, ‘প্রচণ্ড শীতের কারণে মেয়ের বুকে ঠাণ্ডা লেগেছে। তাই চিকিৎসক বলেছেন হাসপাতালে ভর্তি হতে।’

 

নাফিসার মতো চমেক হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগে ভিড় ছিল অসংখ্য শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের। তাদেরও অধিকাংশ এসেছে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। শুধু বহির্বিভাগেও নয়, অন্তঃবিভাগেও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। একই চিত্র পাওয়া গেছে আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে। সেখানেও একই সমস্যা নিয়ে গেল কয়েকদিন ধরে শিশুদের ভিড় বেড়েছে। কাউকে চিকিৎসক ভর্তি হতে পরামর্শ দিলেও অনেককেই বাসায় রেখে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

শুধু হাসপাতালেই নয়, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও গেল কয়েকদিন ধরে এমন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিশু চিকিৎসক। চিকিৎসকরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে শীতের দাপটে কাবু চট্টগ্রাম। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগব্যাধির। তবে এসময়ে এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্নের পাশাপাশি আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পযন্ত সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মা ও শিশু হাসপাতালে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে শয্যা রয়েছে ২২৫টি। গতকাল (সোমবার) সেখানে রোগী ভর্তি ছিল প্রায় ৩শ’ জন। এরমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগী। শয্যার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় এক শয্যায় দু’জনকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একই চিত্র চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের। বিভাগটিতে ৯৫টি শয্যার বিপরীতে প্রায় তিনগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। যার কারণে এক শয্যার বিপরীতে দু’জনকে সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

 

 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘ঠাণ্ডাজনিত রোগী ভর্তি হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ হয়নি। মাসখানেক আগেও রোগীর সংখ্যা চারশ’ ছাড়িয়েছে। সে তুলনায় এখন কিছুটা সহনীয়। তবে যেভাবে শীত বাড়ছে, তাতে অবশ্যই পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে। শিশুর প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে।’

 

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, ‘ঠাণ্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও হাসপাতালে বেড়েছে। যদিও অন্য বছরের তুলনায় তা কিছুটা কম। তবে পরিস্থিতি এমন থাকলে সামনে আরও রোগী বাড়তে পারে। এখন হাসপাতালে ভর্তি ৫০ শতাংশের বেশি রোগীই হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের যত্ন নিতে হবে বেশি বেশি।’

 

পূর্বকোণ/আরএ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট